সরকারি বাসে মহিলাদের ‘ফ্রি’ রাইড, মাথায় হাত বেসরকারি বাসের! দিনভর লোকসান রুখতে বড় দাবি মালিকদের

কলকাতা: রাজ্যে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াত পরিষেবা চালু হতেই বড়সড় ধাক্কা খেল বেসরকারি পরিবহণ ব্যবস্থা। লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি মেনে বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গ পরিবহণ নিগম (WBTC), দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা (SBSTC) এবং উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা (NBSTC)-র বাসে মহিলাদের জন্য নিখরচায় যাতায়াতের সুবিধা চালু করেছে। আর এর জেরেই এবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন বেসরকারি বাস মালিকরা।
যুগ্ম বাস সিন্ডিকেট পরিষদের সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, মহিলাদের বিনামূল্যে বাসযাত্রা চালু হওয়ার পর থেকে প্রতিটি বেসরকারি বাসে দৈনিক গড়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় কমে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই যেখানে সরকারি বাস পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে মহিলা যাত্রীরা নিখরচায় যাতায়াতের সুযোগ হাতছাড়া করছেন না। ফলে ফাঁকা যাচ্ছে বেসরকারি বাস। অথচ রাজ্যের মোট বাসযাত্রীর প্রায় ৮৫ শতাংশই এই বেসরকারি বাসের উপর নির্ভরশীল।
জ্বালানির ছ্যাঁকা, তার ওপর দীর্ঘদিন বাড়েনি ভাড়া:
অল বেঙ্গল বাস ও মিনিবাস কো-অর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় জানান, শুধু চলতি বছরের মে মাসেই ডিজেলের দাম লিটারপিছু প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। অথচ রাজ্যে শেষবার বাসভাড়া বৃদ্ধি হয়েছিল সেই ২০১৮ সালে। একদিকে আকাশছোঁয়া জ্বালানির দাম আর অন্যদিকে যাত্রী কমে যাওয়া— এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে পিষ্ট বেসরকারি বাস অপারেটররা।
বাঁচতে ‘কিলোমিটার স্কিম’-এর দাবি:
এই চরম লোকসান থেকে বাঁচতে এবার সরকারের কাছে ‘কিলোমিটার স্কিম’ বা কিলোমিটার ভিত্তিক প্রকল্প চালুর দাবি জোরালো করেছে বাস সংগঠনগুলি। এই প্রস্তাবিত প্রকল্পে বেসরকারি বাসগুলিকে সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বাসের মালিকরা গাড়ি কেনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালক সরবরাহের দায়িত্বে থাকবেন। অন্যদিকে, পরিবহণ দফতর সরকারি কন্ডাক্টর দিয়ে ভাড়া সংগ্রহ করবে এবং প্রতি কিলোমিটার চলার জন্য বাস মালিকদের একটি নির্দিষ্ট অর্থ দেবে। বাস মালিকদের মতে, এই প্রকল্প চালু হলে পরিচালন খরচ ও লোকসান নিয়ে তাঁদের আর চিন্তা করতে হবে না।
বাস সংগঠনগুলির স্পষ্ট বক্তব্য, সরকারের বিনামূল্যে বাসযাত্রার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। তবে শিলিগুড়ি-কোচবিহার কিংবা হাওড়া স্টেশনের মতো যেসব রুটে সরকারি বাসের সংখ্যা বেশি, সেখানে বেসরকারি বাসের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই অবিলম্বে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।