নন্দীগ্রামের মতো গুলি না চালিয়েও শিল্প সম্ভব! টাটাদের ফেরানো ও বাজেটে মহাচমকের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

নন্দীগ্রামের মতো গুলি না চালিয়েও শিল্প সম্ভব! টাটাদের ফেরানো ও বাজেটে মহাচমকের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

কলকাতা: “বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে বিনিয়োগ আসবেই”—ভোটের এই স্লোগানকে এবার বাস্তবে রূপ দিতে কোমর বেঁধে নামছে নতুন সরকার। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ‘বঙ্গভঙ্গ নয়, বঙ্গোন্নয়ন’-এর লক্ষ্যে নতুন দিশা দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে এক মেগা সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন, বাংলায় এবার শিল্পের দিন ফিরছে। সেই সঙ্গে বাম ও তৃণমূল দুই জমানাকেই একহাত নিয়ে টাটা গোষ্ঠীকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার বড় ঘোষণাও করলেন তিনি।

রাজ্যের অর্থনৈতিক শ্রী ফেরাতে এবং বেকারত্ব দূর করতে মুখ্যমন্ত্রী এক বিশেষ ‘ত্রিমুখী নীতি’ ঘোষণা করেছেন:

১) রাজ্যের সমস্ত শূন্যপদে দ্রুত যোগ্য ও মেধাবীদের স্বচ্ছ নিয়োগ।

২) কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন ও ব্যাংকিং বিপ্লবের মাধ্যমে ছোট-বড় ব্যবসায়ী ও বেকার যুবকদের ভর্তুকিযুক্ত ঋণের সুবিধা দেওয়া।

৩) ভারী শিল্প, MSME, ফুড প্রসেসিং, হর্টিকালচার এবং মৎস্যচাষ ভিত্তিক প্রসেসিং ইউনিট গড়ে তোলা।

জমি নীতি নিয়ে বড় বার্তা:

শিল্প বা পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য আর জোর করে জমি কেড়ে নেওয়া হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, “সিপিএম যেভাবে গুলি চালিয়ে জমি নিয়েছিল, মানুষ তার বিরোধী। আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে শিল্পপতিদের তাড়িয়েছিলেন, মানুষ সেটারও বিরোধী। সঠিক দাম পেলে মানুষ নিজেই জমি দেবে। আমাদের সরকারে রেল, জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ বা হাসপাতালের জন্য মানুষ নিজে এগিয়ে এসে জমি দিচ্ছে।”

টাটাদের প্রত্যাবর্তন ও সিঙ্গুর জট:

বাংলায় কি তবে ফিরছে টাটা কো ম্পা নি? মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট জবাব, “সিঙ্গুর এবং টাটা নিয়ে এখনই সব বলছি না, তবে টাটাকে আমরা এখানে আনবই। সিঙ্গুরের যে জমি তা বিগত সরকার চাষিদের ফিরিয়ে দিলেও সেখানে এখন আর আলু বা ধান চাষ হচ্ছে না, মাটির চরিত্র নষ্ট হয়ে গেছে।”

বাজেটে বড় চমক ও ‘১২৫ দিনের কাজ’:

আগামী ২০ জুন নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হতে চলেছে। সেখানে আত্মনির্ভর পশ্চিমবঙ্গ গড়ার লক্ষ্যে বড় চমক থাকছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলায় আসতে চলেছে ‘১২৫ দিনের কাজের স্কিম’, যার জন্য আগামী অর্থবর্ষে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

BGBS নিয়ে ৬৩৫ কোটির কেলেঙ্কারির তদন্ত!

বিগত তৃণমূল সরকারের সাধের ‘বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন’ (BGBS) নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এই সম্মেলনের আয়োজন করতে গত সরকার একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকেই কেবল ৬৩৫ কোটি টাকা পাইয়ে দিয়েছিল! এই বিপুল খরচের নেপথ্যে কী রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে এবার বড়সড় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *