সই-বিতর্কের জের কাটার আগেই এবার উস্কানিমূলক মন্তব্যের মামলায় অভিষেকের দুয়ারে সিআইডি!

সই-বিতর্কের জের কাটার আগেই এবার উস্কানিমূলক মন্তব্যের মামলায় অভিষেকের দুয়ারে সিআইডি!

বিধানসভায় সই জালিয়াতি মামলার রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আইনি চাপ আরও বাড়ল। এবার নির্বাচনী প্রচারণায় ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের কালীঘাটের বাসভবনে হাজির হলো রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (সিআইডি)। শুক্রবার বিকেলে সিআইডির একটি দল নোটিস ধরাতে তাঁর পটুয়া পাড়ার বাড়িতে গেলে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। তবে ঘটনার সময় অভিষেক বাড়িতে না থাকায় নোটিস গ্রহণ নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়।

অভিষেক অনুপস্থিত, কালীঘাটে টানটান উত্তেজনা

তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, ভোটপ্রচারের সময় উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে প্রথমে বাগুইআটি থানায় এবং পরবর্তীতে সল্টলেকের সাইবার থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। পরে এই মামলার তদন্তভার নেয় সিআইডি। সেই সূত্রেই শুক্রবার বিকেল ৪টে ৪০ মিনিট নাগাদ সিআইডির একটি দল তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছায়। তবে তার কিছু আগেই, দুপুর ৩টে ৫০ মিনিট নাগাদ অভিষেক বাড়ি থেকে বের হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

সাংসদ বাড়িতে না থাকায় নোটিস কে গ্রহণ করবেন, তা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ সংশয় তৈরি হয়। অভিষেকের অফিসের কর্মীরা সিআইডি আধিকারিকদের জানান যে বিষয়টি অভিষেককে জানানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালীঘাট এলাকায় রাজনৈতিক কর্মী ও আইনজীবীদের ভিড় জমে যায় এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

তীব্র হচ্ছে আইনি ও রাজনৈতিক চাপ

এই নতুন মামলার কারণে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত অস্বস্তিতে পড়েছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। এর মাত্র একদিন আগেই, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, বিধানসভায় তৃণমূল পরিষদীয় দলের চিঠিতে সই জালিয়াতির মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ভবানী ভবনে টানা সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিষেক। আগামী ১৪ জুন, রবিবার তাঁকে আবারও তলব করা হয়েছে। সই-কাণ্ডে দেব, সায়নী, রচনার মতো ১৯ জন তৃণমূল সাংসদের স্বাক্ষর নিয়ে ওঠা বিতর্কের তদন্তের মাঝেই এই নতুন মামলার সংযোজন নিশ্চিতভাবেই অভিষেকের ওপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রবিবারের জিজ্ঞাসাবাদের আগেই এই নতুন নোটিস তৃণমূল শিবিরের আইনি লড়াইকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *