সরকারি ত্রাণ থেকে লাঠি-রড ও সাদা থান! তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়কের বিএড কলেজে হানা দিয়ে চোখ কপালে পুলিশের

ধনেখালি: বিএড কলেজের স্টোররুম যেন আস্ত এক দুর্নীতির গুদাম! গভীর রাতে বেসরকারি বিএড কলেজ থেকে সরকারি ত্রাণসামগ্রী পাচারের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়াল হুগলির ধনেখালিতে। শুধু সরকারি ত্রিপল বা সাবান নয়, ওই কলেজ থেকে উদ্ধার হয়েছে থরে থরে সাজানো রড, লাঠি এবং বিপুল পরিমাণ সাদা থান (কাপড়)। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে তারকেশ্বরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায়ের নিজস্ব বলে পরিচিত কোটালপুর বিদ্যাসাগর টিচার্স ট্রেনিং কলেজে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ওই তৃণমূল নেতা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওই বিএড কলেজের ভেতর থেকে চুপিচুপি সরকারি ত্রাণসামগ্রী অন্যত্র সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছিল কয়েকজন। রাতের অন্ধকারে এই সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসতেই হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্তদের আটকে রেখে খবর দেওয়া হয় ধনেখালি থানায়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান তারকেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক সন্তু পান এবং গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকেরা। প্রাক্তন বিধায়কের শাস্তির দাবিতে কলেজের সামনেই বিক্ষোভ শুরু হয়।
স্টোররুমে মিলল রড-লাঠি ও সাদা থান!
উত্তেজনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে কলেজের স্টোররুমে তল্লাশি চালাতেই চোখ কপালে ওঠে সবার। সেখান থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রিপল, ডাস্টবিন, সাবান ও বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। তবে সবচেয়ে বেশি চমকপ্রদ বিষয় হলো, ত্রাণসামগ্রীর পাশাপাশি সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর লাঠি, লোহার রড এবং রহস্যজনক সাদা থান কাপড়।
বিজেপির অভিযোগ ও পলাতক বিধায়ক:
বিজেপি বিধায়ক সন্তু পানের সরাসরি অভিযোগ, “তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক রামেন্দু সরকারি সামগ্রী লুট করে নিজের কলেজে লুকিয়ে রাখতেন। এলাকায় তোলাবাজি এবং সরকারি প্রকল্প থেকে কাটমানি খাওয়ার মূল হোতা ছিলেন উনি।”
এই ঘটনার পর রাতেই বিদ্যাসাগর টিচার্স ট্রেনিং কলেজটি সম্পূর্ণ ‘সিল’ করে দিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি কলেজের পাশে থাকা রামেন্দুর বিধায়ক কার্যালয়টিতেও তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায়-সহ বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকেই হন্যে হয়ে খোঁজ মিলছে না ‘নিখোঁজ’ তৃণমূল নেতার। তাঁর সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।