আমার লুকানোর কিছু নেই, ডিজে মন্তব্য বিতর্কে সিআইডি তলব নিয়ে মুখ খুললেন অভিষেক!
উস্কানিমূলক ও প্ররোচনামূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে এবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করল সিআইডি। আগামী ১৬ জুন বেলা ১১টায় তাঁকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবারই তাঁর অফিসে গিয়ে এই নোটিস হস্তান্তর করেন তদন্তকারীরা। তবে এই তলব নিয়ে আইনি বা রাজনৈতিকভাবে ব্যাকফুটে যেতে রাজি নন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। সিআইডির এই পদক্ষেপের পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর লুকানোর কিছু নেই এবং তিনি তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
তদন্তে সহযোগিতার বার্তা ও মিডিয়া ট্রায়ালের অভিযোগ
শুক্রবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সশরীরে অফিসে উপস্থিত না থাকায় তাঁর কর্মচারীর মাধ্যমে সিআইডি এই নোটিস পাঠায়। এই প্রসঙ্গে অভিষেক জানান, তদন্তকারীরা আগে থেকে জানিয়ে এলে বা কিছুটা অপেক্ষা করলে তিনি নিজেই নোটিস গ্রহণ করতেন। এর আগেও একাধিক কেন্দ্রীয় ও রাজ্য তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমায় যেখানেই যখন ডেকেছে আমি গিয়েছি। আমার পক্ষে যতটুকু সহযোগিতা করা সম্ভব আমি করব।” তবে তদন্তের গোপন প্রশ্ন ও উত্তর সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেতা। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়েছেন।
বিতর্কের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মূলত একটি জনসভায় দেওয়া বিতর্কিত ‘ডিজে মন্তব্য’-এর জেরে অভিষেকের বিরুদ্ধে উস্কানি ও প্ররোচনা দেওয়ার মামলা রুজু হয়, যার ভিত্তিতেই এই সিআইডি তলব। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই আইনি টানাপোড়েন রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়াতে পারে। একদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে মরিয়া, অন্যদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৬ জুনের জিজ্ঞাসাবাদ এবং হাইকোর্টে অভিষেকের আইনি পদক্ষেপ আগামী দিনে এই মামলার মোড় কোন দিকে ঘোরায়, এখন সেটাই দেখার।