পরীক্ষাকেন্দ্রে চরম হেনস্থা! মেটাল ডিটেক্টর ঢোকানো হলো পরীক্ষার্থীদের মুখে, ভাইরাল ইউপির ভিডিওতে তোলপাড়

লখনউ: পরীক্ষা দিতে গিয়ে এ কেমন হেনস্থা! পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার মুখে নিরাপত্তা তল্লাশির নামে পরীক্ষার্থীদের মুখের ভেতর সেঁধিয়ে দেওয়া হলো হ্যান্ডহেল্ড মেটাল ডিটেক্টর! উত্তরপ্রদেশের পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় সুরক্ষার নামে এমন অদ্ভুত ও নজিরবিহীন কাণ্ড এখন নেটদুনিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল। আর এই ভিডিও সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নেটিজেনরা।
ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার আগে সিকিউরিটি গার্ডরা নিয়মের তোয়াক্কা না করে মেটাল ডিটেক্টরটি সরাসরি পরীক্ষার্থীদের মুখের ভেতর এবং ঠোঁটের কাছে নিয়ে গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে।
‘এরা চাকরিতে ঢুকে মানুষের সাথে কী ব্যবহার করবে?’ চড়ল ক্ষোভের পারদ
এই ঘটনার ভিডিও এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে শেয়ার করে এক ব্যবহারকারী তীব্র কটাক্ষ করে লিখেছেন, “৪০,০০০ টাকা বেতনের একটি সরকারি চাকরির জন্য এই স্তরের নিরাপত্তা তল্লাশি চলছে! ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউএস সিক্রেট সার্ভিস যদি উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরের পুলিশের কাছ থেকে শিক্ষা নিত, তবে ট্রাম্পের ওপর হওয়া তিনটি হামলা অনায়াসেই রুখে দেওয়া যেত।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “এটা যদি কনস্টেবল পরীক্ষার হাল হয়, তবে এরা চাকরি পাওয়ার পর সাধারণ মানুষের সাথে কেমন আচরণ করবে, তা সহজেই অনুমেয়।”
সংক্রমণের বড় ঝুঁকি, উঠছে স্বাস্থ্যের প্রশ্ন
একই মেটাল ডিটেক্টর একের পর এক পরীক্ষার্থীর মুখের ভেতর ঢোকানোর ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা। অন্য এক ক্ষুব্ধ নেটিজেন লিখেছেন, “সুরক্ষা তল্লাশি কি এভাবেই করতে হয়? সরাসরি মুখের ভেতর মেশিন গলিয়ে দেওয়া হচ্ছে! পরীক্ষার কথা বাদ দিলেও, একজনের মুখ থেকে অন্যজনের শরীরে ইনফেকশন বা রোগ ছড়ানোর এর চেয়ে ভালো উপায় আর কিছু হতে পারে না।”
This is security checking for a job which pays ₹40 thousand starting gross salary.
— Siddharth's Echelon (@SiddharthKG7) June 11, 2026
If Donald Trump’s US Secret Service took lessons from Jaunpur police, they could stop 3 assassination attempts on him.
Shame on USSS. pic.twitter.com/i2WQVJoTCA
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মাঝেই কেলেঙ্কারি
উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের এই পরীক্ষাটি ৩ দিন ধরে চলেছে। রাজ্যজুড়ে মোট ৩২,৬৭৯টি শূন্যপদের জন্য প্রায় ২৮.৮৭ লক্ষ পরীক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। পরীক্ষা প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে গোটা রাজ্যে ১,১৮৩টি পরীক্ষাকেন্দ্র গড়া হয়েছিল। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারি, স্ট্যাটিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিপুল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও কীভাবে পরীক্ষার্থীদের সাথে এমন চূড়ান্ত অপমানজনক ও অস্বাস্থ্যকর আচরণ করা হলো, তা নিয়ে প্রশাসনের দিকেই আঙুল উঠছে।