সাড়ে তিনশ কিমি সড়কপথ পেরিয়ে ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার

সাড়ে তিনশ কিমি সড়কপথ পেরিয়ে ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার

বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের দীর্ঘ ৫৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী হলো দুই দেশের কূটনৈতিক মহল। বিমানে নয়, প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার সড়কপথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় নিজের কর্মস্থলে যোগ দিতে বাংলাদেশে পৌঁছলেন নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। শুক্রবার দুপুর ১২টা নাগাদ তিনি ও তাঁর সহধর্মিণী মিনাল ত্রিবেদী যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। বেনাপোল স্থলবন্দরে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পবনকুমার তুলসীদাস এবং বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের ডেপুটি চিফ অফ প্রোটোকল অফিসার আরিফ মাহমুদ।

কূটনীতিতে নতুন মাত্রা ও ব্যতিক্রমী বার্তা

গত এপ্রিলে ভারতের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও প্রবীণ বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দুই দেশের সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম কোনো পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে একজন দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিত্বকে ঢাকায় পাঠাল দিল্লি। বাংলাভাষী দীনেশ ত্রিবেদী বাঙালি সংস্কৃতি, সাহিত্য ও মূল্যবোধ সম্পর্কে গভীরভাবে সম্যক অবহিত। বিমানে না এসে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত পেরিয়ে সাধারণ মানুষের মতো সড়কপথে তাঁর এই আগমনকে দুই দেশের সংযোগ স্থাপনের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ইতিবাচক প্রতীকী বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

জনগণের উন্নয়নই একমাত্র অগ্রাধিকার

ঢাকা পৌঁছানোর পর উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়ে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন নতুন হাইকমিশনার। দুই দেশের নিবিড় আত্মিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তাঁর একমাত্র অগ্রাধিকার হলো ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্কের আরও উন্নয়ন ঘটানো। ভৌগোলিক সীমানার ঊর্ধ্বে গিয়ে তিনি দুই দেশের জনসংখ্যাকে এক সুতোয় বেঁধে সামগ্রিক কল্যাণের কথা বলেন। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা সহ যেকোনো বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সমস্যাকে ভালোবাসা এবং আন্তরিকতার মাধ্যমে সমাধান করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

অভিন্ন স্বপ্ন ও সম্ভাব্য প্রভাব

নতুন হাইকমিশনারের এই রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং সাংস্কৃতিক সংযোগ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন গতি আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিন্ন আকাশ, বাতাস এবং একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ভারত-বাংলাদেশ কীভাবে যৌথভাবে এগিয়ে যেতে পারে, তাঁর বক্তব্যে সেই রূপরেখাই স্পষ্ট হয়েছে। একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের এই আন্তরিক উদ্যোগ ও ‘অভিন্ন স্বপ্নের’ বার্তা আগামী দিনে দুই দেশের সীমান্ত সমস্যা, বাণিজ্য এবং জনযোগাযোগের ক্ষেত্রকে আরও মসৃণ ও আন্তরিক করে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *