সিআইডি নোটিস ঘিরে ফের উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করে পাল্টা তোপ অভিষেকের

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা সাজানোর অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করা হবে না, সেই প্রশ্ন তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সই জালিয়াতি-কাণ্ডে সিআইডি জিজ্ঞাসাবাদের রেশ কাটতে না কাটতেই, নির্বাচনী জনসভায় ‘ডিজে’ বাজানো সংক্রান্ত মন্তব্যে হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বাড়িতে ফের সিআইডি প্রতিনিধি দল পৌঁছানোয় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গেছে।
আইনি নোটিস ও নতুন মামলার জের
তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন তিনি ফলাফল ঘোষণার পর ‘ডিজে বাজানো’র কথা বলে উস্কানি দিয়েছিলেন। এই প্রেক্ষিতেই শুক্রবার তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে নোটিস দিতে যায় সিআইডি প্রতিনিধি দল। যদিও সেই সময় দলীয় বৈঠকে ব্যস্ত থাকায় সিআইডি প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি। এর আগে, রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা মনোনয়নে স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলায় কলকাতার ভবানী ভবনে সিআইডির ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। আগামী ১৪ তারিখ এই মামলায় তাঁকে পুনরায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে সহযোগিতা ও শাহের বিরুদ্ধে পাল্টা সওয়াল
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক দাবি করেছেন, তিনি বরাবরই তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করে আসছেন এবং এর আগে কেন্দ্রীয় এজেন্সির মুখোমুখিও হয়েছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্বাচনী প্রচারের একটি বিতর্কিত মন্তব্য টেনে এনেছেন। অভিষেকের প্রশ্ন, ভোটের প্রচার চলাকালীন যদি তাঁর ‘ডিজে’ সংক্রান্ত মন্তব্যের জন্য এফআইআর হতে পারে, তবে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের আওতাধীন সময়ে অশান্তি ছড়ালে ‘উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করার’ হুঁশিয়ারি দেওয়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেন কোনও আইনি পদক্ষেপ বা এফআইআর করা হলো না।
তদন্তের গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সমান্তরালে সিআইডি দপ্তরে হওয়া জিজ্ঞাসাবাদের অভ্যন্তরীণ তথ্যাদি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, তদন্তকারী সংস্থার একাংশের মদতেই এই প্রশ্নোত্তর পর্ব বাইরে আসছে। এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের একাংশের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিআইডি-র এই অতিসক্রিয়তা এবং পাল্টা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান আগামী দিনে রাজ্য ও কেন্দ্রের শাসকদলের রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলবে, যা আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি জনমানসেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।