অভিষেকের এক চালে গলল বরফ, সম্মান পেলে ভাইপোকে বুকে জড়িয়ে কাজ করতে রাজি কল্যাণ

অভিষেকের এক চালে গলল বরফ, সম্মান পেলে ভাইপোকে বুকে জড়িয়ে কাজ করতে রাজি কল্যাণ

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে প্রবীণ বনাম নবীন শিবিরের তীব্র দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাতে বড় চাল দিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত কয়েকদিন ধরে প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লাগাতার তোপ এবং সিআইডি-র জোড়া তলবে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ার পর, অভিষেকের একটি পরিপক্ব ও সৌজন্যমূলক মন্তব্যেই আমূল বদলে গেছে পরিস্থিতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বেরিয়ে অভিষেক প্রবীণ নেতাকে সম্মান জানিয়ে বক্তব্য রাখার পর, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও মান-অভিমান স্তিমিত হয়ে পড়েছে।

মান-অভিমানের অবসান ও নতুন সমীকরণ

অভিষেকের সুর নরম করার পর পাল্টা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, অভিষেক তাঁর কাছে সন্তানসম এবং একজন প্রবীণ মানুষ হিসেবে শুধু ন্যূনতম সম্মানটুকুই তাঁর প্রাপ্য। সেই কাঙ্ক্ষিত সম্মান পেলে তিনি অভিষেককে বুকে জড়িয়ে একসঙ্গে কাজ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। অভিষেকের এই অবস্থান পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, অভিষেক নিজের ভুল বুঝতে পেরে যে অবস্থান নিয়েছেন, তাকে তিনি মান্যতা দিচ্ছেন। দলের অন্দরে কোনো পদ বা লোভের আকাঙ্ক্ষা নেই দাবি করে তিনি কেবল পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর জোর দিয়েছেন।

দলীয় রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিষেকের এই ‘শ্রদ্ধা’র তাস তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে সাময়িকভাবে থামিয়ে দিতে বড় ভূমিকা পালন করেছে। এই সমঝোতার ফলে আগামী দিনে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে নামা ঘাসফুল শিবিরের জন্য অনেক সহজ হবে। দলীয় নেতৃত্বের এই নমনীয় মনোভাব দলের তৃণমূল স্তরের কর্মী-সমর্থকদের বিভ্রান্তি দূর করতে সাহায্য করবে এবং শীর্ষ নেতৃত্বকে বড়সড় স্বস্তি দেবে। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি লড়াইয়ের বিষয়টিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কূটনৈতিক দূরত্ব বজায় রাখার কৌশল ইঙ্গিত দেয় যে, বরফ গললেও সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সমীকরণ এখনও চূড়ান্ত হওয়া বাকি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *