রবিবার ভবানী ভবনে মুখোমুখি অভিষেক ও কুণাল? ভবানী ভবনে পারদ চড়ছে থ্রিলারের

বাংলায় বিজেপির সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে প্রতিনিয়ত নতুন নাটকীয়তা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি এখন চরম রোমাঞ্চকর। সই জাল করার একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগামী রবিবার ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে তলব করেছে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি। একই দিনে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে চলেছেন দলের প্রধান মুখপাত্র তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষও। ফলে রাজনৈতিক মহলে এখন তীব্র গুঞ্জন, তবে কি রবিবার ভবানী ভবনে দুজনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে চলেছেন গোয়েন্দারা?
জেরা ও মুখোমুখি বসানোর প্রস্তুতি
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেরা করা হলেও তাঁর দেওয়া জবাবে সন্তোষজনক তথ্য মেলেনি। সেই কারণেই রবিবার তাঁকে পুনরায় তলব করা হয়েছে। অন্যদিকে, শুক্রবার সিআইডি-র এক কর্মকর্তা কুণাল ঘোষের বাড়িতে গিয়ে রবিবার বিকেলের শিফটে তাঁকে সাক্ষী হিসেবে হাজির হওয়ার সমন দিয়ে এসেছেন। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, রবিবারের জিজ্ঞাসাবাদে যদি অভিষেকের বয়ানে কোনো ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়ে, তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য উদঘাটনে কুণাল ঘোষের সঙ্গে তাঁকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হতে পারে। এই বিষয়ে কুণাল ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই সই জাল মামলার তদন্তে সিআইডি মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে। প্রথমত, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের জন্য আসল রেজোলিউশনটি ঠিক কবে হয়েছিল—৬ মে নাকি ১৯ মে? দ্বিতীয়ত, উক্ত বৈঠকের কার্যবিবরণী সম্বলিত আসল ‘মিনিটস বুক’ বা খাতাটি বর্তমানে কোথায় রয়েছে? এবং তৃতীয়ত, যেসব বিধায়করা তাঁদের সই নকল করার অভিযোগ তুলছেন, তাঁদের হয়ে আসলে কারা সই করেছিলেন?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে এই প্রশ্নগুলোর কোনো সদুত্তর না মেলাতেই সিআইডি তদন্তের গতি বাড়িয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার শর্তেই অভিষেক আইনি রক্ষাকবচ পেয়েছেন। তবে সিআইডি সূত্রে ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অসহযোগিতার এই একই অজুহাতে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো হেভিওয়েট নেতাদের গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। ফলে সিআইডি-র এই অসহযোগিতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগামী দিনে এই সই জাল মামলার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং অভিষেকের আইনি রক্ষাকবচ বহাল থাকে কিনা, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে গভীর উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।