প্রশান্ত মহাসাগরে দানা বাঁধছে এল নিনো, তবে কি তীব্র খরা ও বৃষ্টির ঘাটতিতে পুড়বে দেশ?

প্রশান্ত মহাসাগরে দানা বাঁধছে এল নিনো, তবে কি তীব্র খরা ও বৃষ্টির ঘাটতিতে পুড়বে দেশ?

ভারতের আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) আনুষ্ঠানিকভাবে বিষুবরেখা-সংলগ্ন প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’ পরিস্থিতির সূচনা নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, আসন্ন দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মরসুমে এই জলবায়ুগত ঘটনাটি আরও শক্তিশালী রূপ ধারণ করতে পারে। তাদের সর্বশেষ ‘এনসো’ (ENSO) এবং ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ (IOD) বিষয়ক বুলেটিনে জানানো হয়েছে, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সূচক ‘নিনো ৩.৪’-এর তিন মাসের গড় মান নির্ধারিত সীমা (+০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) অতিক্রম করেছে। সমুদ্রের এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, যা একটি পূর্ণাঙ্গ এল নিনো পরিস্থিতির স্পষ্ট ইঙ্গিত।

ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো

পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুন থেকে আগস্ট সময়কালের মধ্যে মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার এই ঊর্ধ্বমুখী অবস্থা বজায় থাকবে। জুলাই মাস থেকে তা মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর—উভয় অঞ্চলেই সমানভাবে বিস্তৃত ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। সর্বশেষ আবহাওয়া মডেলগুলোর পূর্বাভাস বলছে, ভারতের বর্ষাকালের সিংহভাগ সময় জুড়েই মাঝারি থেকে তীব্র শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে। বিষুবরেখা-সংলগ্ন প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশেও তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যার অর্থ আগামী মাসগুলোতে উষ্ণ জলরাশি ক্রমাগত উপরের দিকে উঠে এসে এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

কৃষি ও আবহাওয়ায় সম্ভাব্য প্রভাব এবং আইওডি-র ভূমিকা

ঐতিহাসিকভাবে, এল নিনোর আগমনের সঙ্গে ভারতের দুর্বল বৃষ্টিপাত, স্বাভাবিকের চেয়ে উচ্চ তাপমাত্রা, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া এবং খরার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এই পরিস্থিতি দেশের কৃষি খাতের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তবে আইএমডি জানিয়েছে, ভারতের মৌসুমি বায়ুকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে এল নিনোই একমাত্র উপাদান নয়। বর্তমানে ভারত মহাসাগরে ‘নিউট্রাল’ বা নিরপেক্ষ ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ (IOD) পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরপেক্ষ আইওডি-র কারণে এল নিনোর প্রভাব সরাসরি হ্রাস বা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলেও, জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) একটি আশার আলো দেখিয়েছে। তাদের মতে, জুলাইয়ের দিকে একটি ‘পজিটিভ আইওডি’ বা ইতিবাচক ভারত মহাসাগরীয় ডাইপোল গড়ে উঠতে পারে, যা ‘সুপার এল নিনো’র কারণে ভারতের মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ওপর সৃষ্ট বিরূপ প্রভাব ও খরা পরিস্থিতি কিছুটা হলেও প্রশমিত করতে সাহায্য করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *