মানব কোডারদের দিন কি শেষ? আইটি সেক্টরে ঝড় তুলছে ভারতের এআই এজেন্টরা

মানব কোডারদের দিন কি শেষ? আইটি সেক্টরে ঝড় তুলছে ভারতের এআই এজেন্টরা

তথ্য-প্রযুক্তি তথা আইটি সেক্টরে এখন তীব্র আতঙ্কের হাওয়া। লিংকডইন বা যেকোনো সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে জুনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরি হারানোর হাহাকার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য উন্নতির ফলে বদলে যাচ্ছে কোডিংয়ের চেনা দুনিয়া। মানুষের হাত দিয়ে যে কোড লিখতে এক ঘণ্টা সময় লাগত, জিপিটি-৪, ক্লড কিংবা কপাইলটের মতো প্রযুক্তি তা করে দিচ্ছে মাত্র এক মিনিটে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের অগ্রণী তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থাগুলো এখন বিপুল অর্থ সাশ্রয় এবং কাজের গতি বাড়াতে মানুষের বদলে এআই এজেন্টদের দিয়ে কোড লেখানোর পথে হাঁটছে।

কাজের ধরন বদল ও ভারতীয় সংস্থাগুলোর পাইলট প্রজেক্ট

ভারতের বড় তিনটি তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থা— টাটা, ইনফোসিস এবং উইপ্রো ইতিমধ্যে এই বিষয়ে পাইলট প্রজেক্ট বা পরীক্ষামূলক কাজ শুরু করে দিয়েছে। রুটিন কোড লেখা, ইউনিট টেস্ট বানানো, পুরোনো কোড ডিবাগ করা কিংবা ডকুমেন্টেশন তৈরির মতো একঘেয়ে ও সময়সাপেক্ষ কাজগুলো এখন দেওয়া হচ্ছে এআই এজেন্টদের। তবে এর অর্থ এই নয় যে মানুষের প্রয়োজনীয়তা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাচ্ছে। মূলত কাজের ধরন বদলে যাচ্ছে। একজন সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার এখন নিজে কোড না লিখে পাঁচটি এআই এজেন্টকে সামলাবেন। মানুষের মূল কাজ হবে ক্লায়েন্টের সমস্যা ও ব্যবসার ধরন বোঝা, আর্কিটেকচার ডিজাইন করা এবং এআই-এর তৈরি করা কোডগুলো সঠিকভাবে পরীক্ষা বা সুপারভাইজ করা।

চাকরির বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব এবং জুনিয়রদের সংকট

এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে চাকরির বাজারে বড়সড় ওলটপালট হতে চলেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০২৬-২০২৭ সালের মধ্যে এন্ট্রি লেভেলের বা ফ্রেশারদের চাকরির সুযোগ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে যেতে পারে। যারা শুধু সাধারণ কোড টাইপ করতে পারেন, এআই মূলত তাদের জায়গাটাই কেড়ে নিচ্ছে। তবে এই সংকটের পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ার, এআই ট্রেইনার বা এলএলএম অপসের মতো নতুন পদের চাহিদা বাড়ছে বাজারে। ৫ থেকে ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সিনিয়র ইঞ্জিনিয়াররা এআই-কে গাইড করার দক্ষতার কারণে সুরক্ষিত থাকলেও, যারা শুধু প্রাথমিক কোডিং জানেন, সেই জুনিয়ররা চরম বিপদের মুখে পড়ছেন।

টিকে থাকার চাবিকাঠি ও উত্তরণের পথ

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই কোনো প্রতিযোগী নয়, বরং একে সহকর্মী বা অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে গ্রহণ করাই এখন টিকে থাকার একমাত্র উপায়। এই নতুন চড়াই-উতরাই পার হতে ইঞ্জিনিয়ারদের কোড মুখস্থ করার অভ্যাস বাদ দিয়ে প্রবলেম সলভিং এবং সিস্টেম ডিজাইনে জোর দিতে হবে। গিটহাব কপাইলট বা কার্সরের মতো আধুনিক এআই টুল ব্যবহারে পারদর্শী হওয়া এখন বাধ্যতামূলক। একই সাথে ডোমেইন এক্সপার্ট হওয়া অর্থাৎ ফিনটেক বা হেলথটেকের মতো নির্দিষ্ট কোনো সেক্টরের গভীর জ্ঞান রাখা এবং ক্লায়েন্ট হ্যান্ডলিং বা কমিউনিকেশনের মতো সফট স্কিল উন্নত করা জরুরি। যারা সময়ের সাথে নিজেদের আপডেট করতে পারবেন না তারা পিছিয়ে পড়বেন, আর যারা এআই-কে হাতিয়ার বানাতে পারবেন, কর্মক্ষেত্রে তাদের গুরুত্ব ও চাহিদা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *