হরমুজে ভারতীয় জাহাজে হামলার পর এবার দায় এড়াতে ইরানকে দুষছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প!

পশ্চিম এশিয়ার হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু এবং পরবর্তী কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই এবার এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজে তৈলবাহী জাহাজের ওপর হামলার দায় সরাসরি ইরানের ওপর চাপিয়ে তিনি দাবি করেছেন, ভারতীয় জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলা ব্যর্থ করে দিয়েছে আমেরিকা।
সম্প্রতি মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে পালাউ-পতাকাবাহী একটি তেল ট্যাঙ্কারকে নিশানা করে, যেখানে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। ওই হামলায় ৩ জন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। এর পাশাপাশি গিনি-বিসাউ-পতাকাবাহী ‘জলবীর’ নামের আরেকটি ভারতীয় নাবিক পরিচালিত জাহাজেও হামলা চালায় মার্কিন নৌবাহিনী। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমেরিকা এর দায় স্বীকার করে নেয়। এই ঘটনার জেরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দিল্লি শুক্রবার মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করে। ঠিক এই আবহেই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেন, গত রাতে হরমুজ প্রণালী ছেড়ে যাওয়ার সময় ভারতীয় জাহাজগুলির ওপর ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছিল ইরান, যা আমেরিকা প্রতিরোধ করেছে।
কূটনৈতিক জটিলতা ও ট্রাম্পের কৌশল
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন হামলায় ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে আমেরিকার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ভারতের মতো কৌশলগত মিত্র দেশের ক্ষোভ প্রশমন এবং নিজেদের ওপর থেকে নজর ঘোরাতেই ট্রাম্প এখন ইরানকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন। ইরান অবশ্য সম্প্রতি দাবি করেছিল যে আমেরিকা তাদের বেশিরভাগ শর্তে রাজি হয়েছে, যা ট্রাম্প সম্পূর্ণ ‘ভুয়ো’ এবং ‘অসৎ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। শান্তি চুক্তির আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর এই নতুন ড্রোন হামলার অভিযোগ ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।
প্রভাব ও ভারতের অবস্থান
এই ঘটনার ফলে পশ্চিম এশিয়ায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। ভারত এই অঞ্চলে নিজেদের নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, নাবিকদের কল্যাণ ও মঙ্গলকে ভারত সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। তবে ট্রাম্পের এই নতুন দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ভারত বা ইরান—কোনো পক্ষেরই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই কৌশলী মন্তব্য দিল্লির সাথে ওয়াশিংটনের বিদ্যমান কূটনৈতিক উত্তেজনাকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।