শিলিগুড়িতে তৃণমূল নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, কৃষি কর্মাধ্যক্ষের রহস্যমৃত্যুতে চাঞ্চল্য

শিলিগুড়িতে তৃণমূল নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, কৃষি কর্মাধ্যক্ষের রহস্যমৃত্যুতে চাঞ্চল্য

শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ তথা এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা মহম্মদ আইনুল হকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার সকালে ফাঁসিদেওয়া ব্লক এলাকায় তাঁর নিজস্ব বাসভবন থেকে এই বর্ষীয়ান নেতার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। বাড়িওয়ালা ও পরিবারের সদস্যরা তাঁর গলায় ফাঁস লাগানো দেহ দেখতে পেয়ে দ্রুত উদ্ধার করে ফাঁসিদেওয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পৌঁছে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়ে ইতিমিধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক পটভূমি ও অন্তর্ধান রহস্য

মহম্মদ আইনুল হক শিলিগুড়ির রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ মুখ ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি প্রদেশ কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সেই সময়ে একাধিকবার গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির নির্বাচনে জয়লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন এবং দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে উঠে আসেন। তৃণমূলের আমলে তিনি মহকুমা পরিষদের বিরোধী দলনেতার দায়িত্বও সামলেছেন। সম্প্রতি সমাপ্ত হওয়া বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি দলের হয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছিলেন। তবে নির্বাচনে এই এলাকায় তৃণমূলের পরাজয় এবং বিজেপির জয়লাভের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তাঁকে তেমন একটা সক্রিয় দেখা যাচ্ছিল না। নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকে তাঁর এই প্রকাশ্য অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল।

মৃত্যুর কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

আইনুল হকের মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হলেও পারিবারিক সূত্রের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একাধিক গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এই দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতাজনিত মানসিক অবসাদ থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা মানসিক চাপ রয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না। শিলিগুড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক জোনে একজন ক্ষমতাসীন কৃষি কর্মাধ্যক্ষ তথা শীর্ষ নেতার এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে স্থানীয় তৃণমূল শিবিরের সাংগঠনিক স্তরে বড়সড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ পরিষ্কার হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *