তৃণমূল নেতার অভিযোগে অভিষেকের বাড়িতে পুলিশ, জমি দুর্নীতির শিকড়ে আপ্ত সহায়ক!

মেদিনীপুরের জমি দুর্নীতির তদন্তে নেমে খোদ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছল শালবনি থানার পুলিশ। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে ওঠা জমি দুর্নীতির অভিযোগের সূত্র ধরেই উঠে এসেছে অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের নাম। বর্তমানে সুমিত ফেরার হলেও এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
যেভাবে সামনে এল দুর্নীতি
এই দুর্নীতির সূত্রপাত মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার যুব তৃণমূল নেতা শেখ ইমরানের একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তাঁর অভিযোগ, জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূলের মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা দশ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ সুজয়কে গ্রেপ্তার করে এবং এক বিশাল দুর্নীতি চক্রের হদিস পায়। পুলিশি তদন্তে জানা যায়, পদের প্রভাব খাটিয়ে সুজয় সরকারি জমির চরিত্র বদল করতেন। শালবনি থানার সীতারামপুর মৌজায় দশটি দাগ নম্বরে মোট ৪২০ ডেসিমেল জমি দখল করে জাল দলিল তৈরির পাশাপাশি, ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে কর্ণগড় অঞ্চলেও বহু জমির ভুয়ো দলিল তৈরি করা হয়েছিল।
তদন্তের মোড় ও সম্ভাব্য প্রভাব
পুলিশি হেফাজতে সুজয় হাজরাকে জিজ্ঞাসাবাদের পরই এই তদন্তের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরে যায়। জেরার মুখে সুজয় অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের নাম প্রকাশ করেন। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, জেলা থেকে নিয়ম করে বেআইনি টাকার ভাগ বা ‘উৎকোচ’ পৌঁছত সুমিতের কাছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সুমিতের মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করেই শনিবার ভোররাতে অভিষেকের বাসভবনে হানা দেয় শালবনি থানার পুলিশ। কলকাতার বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়েও এখনও পর্যন্ত সুমিত রায়ের নাগাল পাওয়া যায়নি। এই জমি দুর্নীতির শিকড় যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের দিকে প্রসারিত এবং এর নেপথ্যে আরও অনেক ‘রাঘব বোয়াল’ জড়িত রয়েছে তা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। এই মেগা-দুর্নীতির তদন্ত আগামী দিনে শাসকদলের অন্দরে এবং সার্বিক রাজ্য রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী আইনি ও রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।