রাহুলের চিরবিদায়ে যেন এক বৃত্ত সম্পূর্ণ করলেন সুজন নীল মুখোপাধ্যায়

রাহুলের চিরবিদায়ে যেন এক বৃত্ত সম্পূর্ণ করলেন সুজন নীল মুখোপাধ্যায়

বাঙালি দর্শকের মনে চিরদিনের জন্য জায়গা করে নেওয়া অভিনেতা রাহুলের আকস্মিক প্রস্থান টলিউডে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। তবে মৃত্যুর পরেও তাঁর শেষ কাজকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলতে এগিয়ে এলেন অভিনেতা সুজন নীল মুখোপাধ্যায়। রাহুলের আসন্ন শেষ ছবি ‘অটবি’-র শুটিং শেষ হলেও ডাবিং বাকি থেকে গিয়েছিল। সেই আসামাপ্ত কাজই এবার পরম মমতায় ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে শেষ করলেন নীল। আর এর মাধ্যমেই অভিনেতার জীবনের এক অদ্ভুত বৃত্ত সম্পূর্ণ হলো।

প্রথম থেকে শেষ, এক রূপকথার নেপথ্য কণ্ঠ

রাহুলের অভিনয় জীবনের শুরু এবং শেষ—দুটি অধ্যায়ের সঙ্গেই জড়িয়ে রইল নীলের নাম। রাহুলের প্রথম ব্লকবাস্টার ছবি ‘চিরদিনই তুমি যে আমাদের’-এ রাজ চক্রবর্তীর অনুরোধে সম্পূর্ণ ডাবিং করেছিলেন নীল। তখন রাহুল নবাগত ও বয়সে ছোট হওয়ায় তাঁর চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়ার দায়িত্ব পড়েছিল অভিজ্ঞ নীলের ওপর। পরবর্তীতে ‘ভালোবাসা জিন্দাবাদ’ ছবিতেও রাহুলের কণ্ঠস্বর হয়েছিলেন তিনি। আর এবার অভিনেতা সাহেব চট্টোপাধ্যায়ের অনুরোধে রাহুলের শেষ ছবি ‘অটবি’-র ডাবিংও করতে হলো তাঁকে। মাঝের দীর্ঘ সময়ে কেবল পেশাগত সম্পর্ক নয়, দুই অভিনেতার মধ্যে গড়ে উঠেছিল এক দারুণ ব্যক্তিগত ও মধুর মেলবন্ধন।

মানসিক যন্ত্রণা ও বন্ধুকে শেষ শ্রদ্ধা

এই ডাবিং প্রক্রিয়াটি সুজন নীল মুখোপাধ্যায়ের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। প্রিয় বন্ধুর আকস্মিক চলে যাওয়ার পর তাঁর চরিত্রের লিপে নিজের কণ্ঠ মেলানো ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং এক ভারাক্রান্ত অভিজ্ঞতা। তবে এই কষ্টের মাঝেও এক অদ্ভুত মানসিক শান্তি পেয়েছেন অভিনেতা। চিরতরে চলে যাওয়া প্রিয় সহকর্মী ও বন্ধুর প্রতি এটিই তাঁর সেরা শ্রদ্ধাঞ্জলি বলে মনে করছেন তিনি।

মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ‘অটবি’ এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

‘অটবি’ মূলত একটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বা মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের গল্প। এই ছবিতে রাহুল ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মধুমিতা সরকার, সাহেব চট্টোপাধ্যায়, আরিয়ান ভৌমিক ও ইনায়া চৌধুরী। যেখানে সাহেবকে একজন সাংবাদিকের ভূমিকায় দেখা যাবে। বর্তমানে ছবির ডাবিংয়ের কাজ সম্পন্ন হলেও এই মুহূর্তে ছবিটির মুক্তি নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। রাহুলের প্রয়াণের পর ছবির টিজার, ট্রেলার প্রকাশ কিংবা প্রচারের কৌশল কীভাবে সাজানো হবে এবং কবে নাগাদ সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে আসবে, তা এখনও চূড়ান্ত করেনি প্রযোজনা সংস্থা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *