তৃণমূলকে যে ধ্বংস করবে সেই আমার বন্ধু, বিস্ফোরক অর্জুন সিং!

রাজ্য রাজনীতিতে যখন একের পর এক হেভিওয়েট নেতার বাড়িতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হানা এবং শীর্ষ নেতৃত্বের আইনি জটিলতা নিয়ে তুমুল শোরগোল, ঠিক তখনই শাসকদলকে নিশানা করে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন দাপুটে নেতা অর্জুন সিং। তৃণমূলের অন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি ও আইনি অস্বস্তিকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি সাফ জানিয়েছেন, যারা তৃণমূলের ক্ষতি করবে, তাদের নিয়ে তাঁর কোনো সমস্যা নেই। বরং দলটিকে যারা ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে, তাদের তিনি বন্ধু হিসেবেই দেখছেন।
দলীয় কোন্দল ও ভাঙনের ইঙ্গিত
তৃণমূলের অন্দরে তৈরি হওয়া নতুন ‘বিদ্রোহী ব্লক’ এবং দলীয় নেতা পার্থ ভৌমিকের রাজনৈতিক অবস্থান বদলের জল্পনা নিয়ে অর্জুন সিং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দাবি করেছেন। তাঁর মতে, পার্থ ভৌমিক বিজেপিতে যোগ না দিলেও একটি বিক্ষুব্ধ দলে যাচ্ছেন, যা তৃণমূলকে ভেতর থেকে ধীরে ধীরে শেষ করে দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের অভ্যন্তরীণ ফাটল এখন আর শুধু চাপা ক্ষোভের স্তরে নেই, তা ক্রমশ প্রকাশ্য বিদ্রোহের রূপ নিচ্ছে। অর্জুনের এই মন্তব্য তারই ইঙ্গিতবাহী।
তদন্তের সাঁড়াশি চাপ এবং সম্ভাব্য প্রভাব
কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের বাড়িতে ইডির ম্যারাথন তল্লাশি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সিআইডির তলব প্রসঙ্গেও চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন অর্জুন। তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের বর্তমান আইনি সংকট নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভূমিকার ওপর আরও জোর দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, একদিকে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য তদন্তকারী সংস্থাগুলির এই সাঁড়াশি চাপ তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর আগামী দিনে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পারদ আরও বাড়িয়ে দেবে। সব মিলিয়ে অর্জুন সিংয়ের এই বিস্ফোরক অবস্থান শাসক শিবিরকে আরও বেশি কোণঠাসা করার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে।