‘দাদার মুখোশ আর পরচুল দুটোই খুলে গেছে!’ দলত্যাগী সুদীপকে নজিরবিহীন আক্রমণ মহুয়া মৈত্রের

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা ভাঙন ও বিভাজন এবার চূড়ান্ত রূপ ধারণ করেছে। দিল্লির বুকে প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যাক-টু-ব্যাক বৈঠকের পর এবার তাঁর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নাটকীয় শিবির বদলের সিদ্ধান্তকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করে মহুয়া সপাট দাবি করেছেন, “দাদার আসল মুখোশ এবার খুলে গিয়েছে।”
‘কলকাতায় পেটের রোগ, দিল্লিতে টিভির পর্দায়!’ এক্স হ্যান্ডেলে তীব্র তোপ মহুয়ার
শনিবারের নাটকীয় ঘটনাক্রমের পর নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করেন মহুয়া মৈত্র। তিনি লেখেন, “ওঁর মুখোশ এবং পরচুল (উইগ) দুটোই এবার খুলে গেছে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের বলেছিলেন যে তিনি পেটের সমস্যায় কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি আছেন, অথচ হঠাৎই আমরা টিভির পর্দায় দেখতে পেলাম তিনি দিল্লির বুকে বিজেপি নেতা ভূপেন্দর যাদবের বাসভবনে বসে আছেন!” সুদীপবাবুর এই চরম দ্বিচারিতাকে আক্রমণ করে মহুয়া আরও লেখেন, “দাদা, দয়া করে এবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলের নাম বদলে ‘@SudipBJPBTeam’ করে নিন। অন্তত আমাদের (তৃণমূলের) নাম আর ব্যবহার করবেন না।”
সোমবারই লোকসভায় এনডিএ জোটে বসার অনুমতি চাইবেন সুদীপ
লোকসভার ৬ বারের প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ায় ঘাসফুল শিবিরের অন্দরের চরম তিক্ততা ও ফাটল পুরোপুরি প্রকাশ্যে চলে এসেছে। রাজনৈতিক মহলের খবর, আজ সোমবারই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে গিয়ে এনডিএ (NDA) জোটে বসার আনুষ্ঠানিক অনুমতি চাইতে চলেছেন সুদীপবাবু।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দর যাদবের বাসভবনে বৈঠক করার কিছুক্ষণের মধ্যেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন। যদিও এই মেগা বৈঠক নিয়ে সুদীপবাবু নিজে সংবাদমাধ্যমের সামনে এখনও কোনও মুখ খোলেননি, তবে বিদ্রোহী তৃণমূল শিবির স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে প্রবীণ এই হেভিওয়েট নেতার পূর্ণ সমর্থন এখন তাদের দিকেই রয়েছে।
স্বামী দল ছাড়তেই চরম অস্বস্তিতে বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আকস্মিক দলবদলের জেরে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে তাঁর পারিবারিক ও রাজনৈতিক বৃত্তে। সুদীপবাবুর স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে একজন সক্রিয় তৃণমূল বিধায়ক। ফলে স্বামীর এই চরম দলবদল ও বিজেপি ঘনিষ্ঠতার পর নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান ঠিক কী হতে চলেছে, তা নিয়ে দলের অন্দরে তীব্র জল্পনা ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। একদিকে মহুয়া মৈত্রের এই ঝাঁঝালো আক্রমণ এবং অন্যদিকে সুদীপবাবুর এই মেগা শিবির বদল, সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই বাংলার রাজনীতিকে এক চরম উত্তেজনার কেন্দ্রে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।