মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আইনি নোটিস কাকলি-পুত্রের, ফেরত দিচ্ছেন নেত্রীর দেওয়া উপহার

তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পুত্র, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সেই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া উপহারসামগ্রী—বিয়ের সময় স্ত্রীকে দেওয়া সোনার নেকলেস এবং দুর্গাপূজায় দেওয়া পায়জামা-পাঞ্জাবি—ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। আজই তিনি এই উপহারগুলো ফেরত দিচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নিজের বিবেকের তাড়নায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনার মূলে রয়েছে বারাসাত বিধানসভা কেন্দ্রের টিকিট বিতর্ক এবং ব্যক্তিগত কুৎসা সংক্রান্ত অভিযোগ। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক সাংবাদিক বৈঠকে নাম না করে ইঙ্গিত করেছিলেন যে, এক প্রবীণ সাংসদের পরিবারের সদস্য বারাসাত থেকে বিধানসভার টিকিট চেয়েছিলেন এবং তা না পেয়েই দলে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন ও অসত্য’ আখ্যা দিয়ে বৈদ্যনাথবাবু জানিয়েছেন, তিনি কখনওই বারাসাত বা অন্য কোনো কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেননি।
এর পাশাপাশি, তৃণমূল নেত্রী সোনালী গুহর করা ব্যক্তিগত আক্রমণকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সোনালী গুহ দাবি করেছিলেন যে, বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার, তাঁর ভাই এবং মা কাকলি ঘোষ দস্তিদার নিয়মিত মদ্যপান করেন। এই অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়ে বৈদ্যনাথবাবু জানান, তিনি আইনজীবী পূজা শুক্লর মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র এবং সোনালী গুহকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন। ওই নোটিশে অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় মানহানির মামলাসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূলের অন্দরে দানা বেঁধেছে রাজনৈতিক সংকট। প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোকসভা নির্বাচনে দলের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই কাকলি ঘোষ দস্তিদার সমান্তরাল রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। দলীয় সূত্রের খবর, লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সদস্যের মধ্যে প্রায় ২০ জন সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে অস্বীকার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং একটি আলাদা ব্লক গঠনের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন, যার নেতৃত্বে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বিদ্রোহী মনোভাব এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরের ক্ষমতার সমীকরণ এখন আলোচনার কেন্দ্রে। উপহার ফেরত ও আইনি নোটিসের এই ঘটনা শাসক দলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।