আমার বাংলাদেশি স্ত্রীকে তাড়িয়ে দেবেন না, ও এখন হিন্দু হয়ে গিয়েছে; কাতর আবেদন স্বামীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, আহমেদাবাদ: গুজরাত পুলিশের ‘অপারেশন ডেল্টা হান্ট’ অভিযানের আওতায় অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে কাজল নামের এক বাংলাদেশি তরুণীকে আটক করা হয়েছে। প্রায় এক দশক আগে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আসা কাজল বর্তমানে দুই সন্তানের জননী। তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় অনিশ্চয়তায় পড়েছে তাঁর পরিবার।
পুলিশ সূত্রের খবর, গুজরাতজুড়ে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের চিহ্নিত করতে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে রাজ্য পুলিশ। এই অভিযানের অংশ হিসেবে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আনন্দ জেলার লোকাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ কাজলকে বৈধ নথিপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে আটক করে। রাজ্য পুলিশের ডিজিপি কার্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মাসে রাজ্যব্যাপী ছয়শোর বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে আনন্দ জেলা থেকেই প্রায় ৬০ জনকে ধরা হয়েছে।
আটক কাজলের স্বামী লম্ভবেল গ্রামের বাসিন্দা তরুণ পটেল জানান, ২০১২-১৩ সাল নাগাদ ফেসবুকে কাজলের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কাজল আইন মেনে পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। এরপর পরিবারের চাপে বিয়েতে রাজি না হয়ে তিনি অবৈধ পথেই ভারতে চলে আসেন। ভারতে আসার পর হিন্দু রীতিনীতি মেনে তাঁদের বিয়ে হয় এবং বর্তমানে তাঁদের আট ও দুই বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে। তরুণ পটেলের দাবি, তাঁর স্ত্রী সনাতন ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হলে চরমপন্থীদের হাতে তাঁর জীবনহানির ঝুঁকি রয়েছে।
বর্তমানে কাজলকে একটি মহিলা আশ্রয় হোমে রাখা হয়েছে এবং সেখান থেকেই তাঁকে বাংলাদেশে পুশব্যাক বা নির্বাসনের আইনি প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। মানবিকতার খাতিরে স্ত্রী’কে ফেরত না পাঠানোর জন্য তরুণ পটেল গুজরাতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হর্ষ সঙ্ঘবীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন। ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য যেকোনো আইনি প্রক্রিয়া মানতে তাঁরা প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি। পরিবারের দাবি, মায়ের অনুপস্থিতিতে আট বছর বয়সী সন্তানসহ পুরো পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
এই বিষয়ে আনন্দ জেলার পুলিশ সুপার জিজি জসানি কোনো মন্তব্য করেননি। আহমেদাবাদ রেঞ্জের আইজি রাঘবেন্দ্র বৎস জানিয়েছেন, আনন্দ জেলার এসপির কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট পাওয়ার পরই তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারবেন।