রুই-কাতলার বদলে জালে উঠল থরে থরে আগ্নেয়াস্ত্র! হাবড়ায় অস্ত্র উদ্ধার ঘিরে তুঙ্গে তরজা

রবিবার সকালে হাবড়ার কুমড়া পঞ্চায়েত এলাকায় একটি পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলেন মৎস্যজীবীরা। রুই-কাতলার বদলে তাঁদের জালে উঠে এল জোড়া ব্যাগভর্তি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ তাজা কার্তুজ। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় এলাকায়।
কীভাবে মিলল অস্ত্রের হদিস?
হাবড়া থানার অন্তর্গত পাঁচঘড়িয়ার বাসিন্দা সুব্রত বিশ্বাসের পুকুরে এদিন সকালে জাল ফেলেছিলেন কয়েকজন মৎস্যজীবী। জাল গোটানোর সময় ভারী কিছু আটকা পড়েছে বুঝতে পেরে তাঁরা সেটি ডাঙায় তোলেন। দেখা যায়, একটি কালো রঙের ব্যাগ জালে আটকে রয়েছে। ব্যাগটি খুলতেই ভিতর থেকে বেরিয়ে আসে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৭২ রাউন্ড গুলি। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হাবড়া থানার পুলিশ। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে পুকুরে ফের তল্লাশি চালানো হলে আরও একটি ব্যাগ উদ্ধার হয়। দ্বিতীয় ব্যাগটি থেকে পাওয়া যায় আরও চারটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৫ রাউন্ড গুলি।
রাজনৈতিক তরজা ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, নির্বাচনের পর পরিস্থিতি অনুকূলে এলে এলাকায় সন্ত্রাস ছড়াতে এবং বিরোধী দলের কর্মীদের উপর হামলা চালাতেই শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই বিপুল অস্ত্র মজুত করেছিল। পরবর্তীতে পুলিশের নজরদারি বা অন্য কোনো কারণে বিপদ বুঝে তারা অস্ত্রগুলি পুকুরে ফেলে দেয়। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বারাসাত জেলা পুলিশ সুপার জে মার্সি জানিয়েছেন, এই অস্ত্রের উৎস সন্ধানে এবং দোষীদের চিহ্নিত করতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। জালের মধ্যে এমন অস্ত্রভাণ্ডারের হদিস মেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে যেমন গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, তেমনই আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে বড়সড় সংঘাতের আবহ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।