প্রয়াত সতীর্থের স্মৃতি বুকে নিয়ে রোনাল্ডোদের বিশ্বকাপ অভিযান, বিশেষ ব্রেসলেট পরে মাঠে নামছে পর্তুগাল

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের সোনালী স্বপ্নে বিভোর পর্তুগাল দল। তবে এবারের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশন পর্তুগিজ শিবিরের জন্য কেবলই একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, বরং এটি এক আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলি। প্রায় এক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো দলের অন্যতম প্রতিভাবান ফরোয়ার্ড দিয়োগো জোটার স্মৃতিকে সঙ্গী করে মাঠে নামছেন রোনাল্ডো-ভিতিনহালারা। প্রয়াত সতীর্থের নামাঙ্কিত বিশেষ ব্রেসলেট পরেই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে প্রতি ম্যাচে অংশ নেবেন তারা।
পর্তুগালের এই তারকা ফুটবলার দিয়োগো জোটা চোটে পড়ার কারণে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ মিস করেছিলেন। এরপর নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দলকে ২০২৬ বিশ্বকাপের মূলপর্বে তুললেও, গত জুলাইয়ে স্পেনে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মাত্র ২৮ বছর বয়সে প্রাণ হারান তিনি। ফলে তাঁর অধরাই থেকে যায় বিশ্বকাপ খেলার আজন্ম স্বপ্ন। জোটার এই আসাময়ের চলে যাওয়াকে navy সতীর্থরা মেনে নিতে পারেননি। এই কারণে দলের কোচ রবার্তো মার্টিনেজ জোটাকে বিশ্বকাপ দলে এক অনন্য সাম্মানিক সদস্য হিসেবে রেখেছেন, যা গোটা দলের আবেগকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্মৃতির ব্রেসলেট ও মানসিক শক্তি
সম্প্রতি পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনেগ্রো বিশ্বকাপ দলের ফুটবলারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি করে লাল-সবুজ বিশেষ ব্রেসলেট উপহার দেন। এই ব্রেসলেটগুলোতে খেলোয়াড়দের নিজস্ব নামের পাশে খোদাই করে লেখা রয়েছে দিয়োগো জোটার নাম। আমেরিকার ফ্লোরিডায় দলের অনুশীলনের ফাঁকে পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ভিতিনহা এই ব্রেসলেট প্রদর্শন করে জানান, অত্যন্ত ভালোবাসা এবং আবেগ জড়িয়ে রয়েছে এই স্মারকটির সাথে। জোটার স্মৃতি ফুটবলারদের জন্য বাড়তি মানসিক শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করছে, যা তাদের মাঠে সেরাটা উজাড় করে দিতে উদ্বুদ্ধ করবে।
তবে এই আবেগঘন পরিস্থিতিকে মাঠের পারফরম্যান্সে কোনো নেতিবাচক চাপ হিসেবে দেখতে নারাজ পর্তুগাল দল। ভিতিনহার মতে, দল আপাতত অতিরিক্ত কোনো চাপ না নিয়ে প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চায়। ট্রফি জয়ের দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা মাথায় না রেখে তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হওয়া। জোটার স্মৃতিকে অনুপ্রেরণায় রূপান্তর করে পর্তুগিজরা প্রতিটি মূহূর্তকে উপভোগ করতে চাইছে, যা তাদের মাঠের খেলায় বাড়তি ফোকাস ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
প্রচণ্ড গরমের চ্যালেঞ্জ ও রণকৌশল
আমেরিকার ফ্লোরিডার পাম বিচ গার্ডেনসে ঘাঁটি গেড়েছে পর্তুগাল দল। সেখানকার তীব্র গরম এবং আর্দ্র আবহাওয়া খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতার জন্য বড় পরীক্ষা। তবে পেশাদার দল হিসেবে পর্তুগাল একে কোনো অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে রাজি নয়। গরমের তীব্রতা মোকাবিলায় ফুটবলাররা নিয়মিত জলপানের পাশাপাশি অনুশীলনের বাইরে সমুদ্র সৈকতে সময় কাটিয়ে নিজেদের মানসিকভাবে সতেজ রাখছেন। প্রতিকূল আবহাওয়া খেলার ধরনে কিছুটা প্রভাব ফেললেও দেশের জন্য যেকোনো পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ পারফর্ম করতে বদ্ধপরিকর রোনাল্ডোরা।
আগামী ১৭ জুন হিউস্টনে কঙ্গোর বিপক্ষে match দিয়ে পর্তুগাল তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। ফুটবল ক্যারিয়ারের সমস্ত ট্রফি জিতলেও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ক্যাবিনেটে এখনো অধরা কেবল ফিফা বিশ্বকাপের এই কুলীন শিরোপাটুকু। একদিকে রোনাল্ডোর ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে অধরা শৃঙ্গ ছোঁয়ার তাগিদ, অন্যদিকে প্রয়াত সতীর্থ দিয়োগো জোটার অপূর্ণ স্বপ্নপূরণের যৌথ দায়বদ্ধতা—সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে পর্তুগাল দল এক ভিন্ন মাত্রার জেদ ও সংকল্প নিয়ে মাঠে নামছে।