আপনার পুরনো মোবাইল নম্বরটি কি বন্ধ? মুহূর্তেই ফাঁকা হতে পারে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট!

বর্তমান ডিজিটাল যুগে সমস্ত আর্থিক ও ব্যক্তিগত কাজের প্রধান চাবিকাঠি হলো মোবাইল নম্বর। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত কোনো সিম কার্ড হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে অনেকেই তা বাতিল করে নতুন নম্বর কিনে নেন। কিন্তু এই সাধারণ ভুলের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে চরম বিপদের শঙ্কা। টেলিকম সংস্থাগুলির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো নম্বর ৪৫ থেকে ৯০ দিন পর্যন্ত বন্ধ থাকলে তা ফের বাজারে নতুন কোনো গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ফলে পুরনো নম্বরের মালিকানা চলে যায় সম্পূর্ণ অপরিচিত কোনো ব্যক্তির হাতে। এর ফলে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট বা ই-মেইলের অত্যন্ত গোপনীয় ওটিপি (OTP) সরাসরি সেই নতুন ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছাতে পারে। যার জেরে সহজেই আপনার ব্যাঙ্কের নিয়ন্ত্রণ বেহাত হতে পারে এবং মুহূর্তে ফাঁকা হতে পারে জমানো টাকা।
বিপদ এড়াতে দ্রুত যা করণীয়
আর্থিক ঝুঁকি এড়াতে নতুন সিম কার্ড নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আধার কার্ড এবং ব্যাঙ্কের নথিতে নতুন নম্বরটি আপডেট করা অত্যন্ত জরুরি। শুধুমাত্র নতুন নম্বর যুক্ত করাই যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি বিভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট অ্যাপ, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ই-মেইল থেকে পুরনো নম্বরটি স্থায়ীভাবে মুছে ফেলতে হবে। অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে অর্থাৎ ব্যাকআপ বা রিকভারি অপশনেও যেন পুরনো নম্বরটি কোনোভাবেই থেকে না যায়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।
বিকল্প সুরক্ষার ব্যবহার
নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করতে এসএমএস-নির্ভর ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া উচিত। এর পরিবর্তে গুগল অথেন্টিকেটর বা মাইক্রোসফট অথেন্টিকেটর-এর মতো আধুনিক অ্যাপগুলোর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। এই অ্যাপ্লিকেশনগুলি সরাসরি মোবাইল ডিভাইসেই সুরক্ষা কোড তৈরি করে, যার জন্য মোবাইল নেটওয়ার্ক বা নির্দিষ্ট নম্বরের ওপর নির্ভর করতে হয় না। এই প্রযুক্তিগত সাবধানতাগুলো অবলম্বন করলেই অন্যের হাতে ব্যাঙ্কের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ার মতো বড়সড় বিপদ ঠেকানো সম্ভব।