চলন্ত ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের গুজবে চার যাত্রীর নির্মম মৃত্যু! মধ্যপ্রদেশে ভয়াবহ বিপর্যয়

মধ্যপ্রদেশে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক রেল দুর্ঘটনার সাক্ষী হলো দেশ। চলন্ত ট্রেনে আগুন লেগেছে— এমন একটি ভিত্তিহীন গুজবের জেরে তৈরি হওয়া আতঙ্ক কেড়ে নিল চারজন নিরীহ মানুষের প্রাণ। উদয়পুর ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসের যাত্রীরা যখন ধোলপুরের দিকে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই হেতমপুর ও ঘের স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় এই বিপর্যয় ঘটে। নিহতদের মধ্যে তিন মহিলা এবং একটি শিশু রয়েছে।
আতঙ্ক ও রেললাইনের মরণফাঁদ
রবিবার মোরেনা থেকে নির্ধারিত সময়ে রওনা দিয়েছিল উদয়পুর ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস। পথিমধ্যে হেতমপুর স্টেশন ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রেনের কামরায় হঠাৎ রটে যায় যে ট্রেনে আগুন লেগেছে। মুহূর্তের মধ্যে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে যাত্রীরা তড়িঘড়ি ট্রেনের আপৎকালীন চেন টানলেও, গতি সম্পূর্ণ কমার আগেই অনেকে চলন্ত ট্রেন থেকে লাইনে ঝাঁপ দিতে শুরু করেন। ট্রেনটি শেষ পর্যন্ত থামলে আতঙ্কিত যাত্রীরা হুড়মুড় করে নেমে রেললাইনের ওপর জড়ো হন।
ঠিক সেই সময়েই ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে উল্টোদিকের লাইন দিয়ে তীব্র গতিতে আসছিল পাতালকোট এক্সপ্রেস। আচমকা ধেয়ে আসা ট্রেন দেখে রেললাইনে থাকা যাত্রীদের মধ্যে নতুন করে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। অধিকাংশ যাত্রী কোনোমতে লাইন থেকে সরে যেতে সক্ষম হলেও, চারজন যাত্রী পাতালকোট এক্সপ্রেসের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিন মহিলা ও এক শিশুর।
তদন্তে রেল প্রশাসন
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রেল পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, চলন্ত ট্রেনে ছড়িয়ে পড়া অনাকাঙ্ক্ষিত গুজব এবং পরবর্তী সময়ে ট্রেনের লাইনে যাত্রীদের হুড়োহুড়িই এই প্রাণহানির প্রধান কারণ। কোনো রকম যাচাই ছাড়া কীভাবে এই অগ্নিকাণ্ডের গুজব ছড়াল এবং এর পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য বা কারও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।