রক্ষাকবচ নেই অভিষেকের! নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি দপ্তরে হাজিরা তৃণমূল সাংসদের

প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) তলবে সাড়া দিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকাল সোয়া ১০টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বেলা ১১টায় সিজিও দপ্তরে পৌঁছন তিনি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই নির্দিষ্ট মামলায় তাঁর কোনও আইনি রক্ষাকবচ নেই, যা এই হাজিরাকে রাজনৈতিক ও আইনগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
স্ক্যানারে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস
এই জিজ্ঞাসাবাদের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, রাজ্যে শিক্ষা দুর্নীতির কোটি কোটি কালো টাকা এই সংস্থার মাধ্যমে সাদা করা হয়েছে। মূলত আর্থিক লেনদেনের এই গভীর গরমিল এবং সম্পত্তির উৎস খুঁজতেই সাংসদকে তলব করা হয়েছে। যদিও অভিষেক প্রথম থেকেই এই অভিযোগগুলি উড়িয়ে দিয়ে দাবি করে আসছেন, মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে তাঁকে ভয় দেখানোর জন্যই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অভিষেকের ওপর তদন্তকারী সংস্থাগুলির চাপ যে ক্রমশ বাড়ছে, তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি ফলতার একটি সভা থেকে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসে’র ২৪টি সম্পত্তি ও আমতলার অফিসের হিসাব চাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক পটভূমিতে ইডির এই পদক্ষেপ তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য প্রবল চাপের সৃষ্টি করেছে। এর আগে বিধানসভার সই জাল কাণ্ডে সিআইডি-র ম্যারাথন জেরার পর এবার ইডি-র এই কড়া নজরদারি আগামী দিনে তৃণমূলের রাজনৈতিক সমীকরণ ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।