বর্ষার শুরুতেই মধ্যবিত্তের পাতে ছ্যাঁকা দিয়ে আকাশছোঁয়া ডিমের দাম!

বর্ষার শুরুতেই মধ্যবিত্তের পাতে ছ্যাঁকা দিয়ে আকাশছোঁয়া ডিমের দাম!

ভ্যাপসা গরম কাটিয়ে রাজ্যে বর্ষার আগমন ঘটলেও স্বস্তি নেই আমজনতার রান্নাঘরে। আলু, পেঁয়াজসহ একাধিক আনাজপাতির পর এবার মহার্ঘ হয়ে উঠেছে পোলট্রির ডিম। শীতকালে কেক ও বেকারির চাহিদার কারণে ডিমের দাম বাড়ার চল থাকলেও, ভরা বর্ষায় ডিমের এমন রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিতে কার্যত মাথায় হাত ক্রেতাদের। পাইকারি থেকে খুচরো—সব বাজারেই গত এক সপ্তাহে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে এই পুষ্টিকর খাদ্যের দাম।

রেকর্ড ভাঙা মূল্যবৃদ্ধি ও বাজারের চিত্র

চলতি জুন মাসের শুরুতেও বাজারে যে এক ট্রে (৩০টি) ডিমের দাম ছিল ১৮০ টাকা, মাসের মাঝামাঝিতে এসে তা দাঁড়িয়েছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়। খুচরো বাজারে এখন এক একটি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ৯ টাকায়। পাইকারি বাজারে প্রতিটি ডিমের দাম ৬.৫০ টাকা এবং ১০০টি ডিমের দাম ৬৫০ টাকায় পৌঁছেছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, পাইকারি বাজারে দাম এতটাই চড়া যে খুচরো বিক্রেতারাও বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে, এই অগ্নিমূল্যের বাজারে গড়িয়াহাটের মতো কিছু এলাকায় রাজনৈতিক আন্দোলনের উদ্দেশ্যে কম দামে, এমনকি নিখরচায় পচা ডিমের পেটি বিলি করার মতো ঘটনাও সামনে আসছে।

নেপথ্যে উৎপাদনের ঘাটতি ও পরিবহণ খরচ

হঠাৎ এই দামবৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ উঠে এসেছে। প্রথমত, তীব্র ভ্যাপসা গরম ও আবহাওয়া পরিবর্তনের জেরে পোলট্রি খামারগুলিতে মুরগির মৃত্যুহার বেড়েছে এবং ডিম পাড়ার হার কমেছে। দ্বিতীয়ত, মুরগির প্রধান খাদ্য ভুট্টা ও সয়াবিনের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ এক ধাক্কায় অনেকখানি বেড়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পোলট্রি ফেডারেশনের মতে, শুধু উৎপাদনই নয়, পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অন্ধ্রপ্রদেশ বা তেলেঙ্গানার মতো ভিন রাজ্য থেকে ডিম আনার পরিবহণ খরচ ও লরিচালকদের দৈনিক ব্যয় অনেকটাই বেড়ে গেছে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও উদ্বেগে মধ্যবিত্ত

শাকসবজি ও ভোজ্য তেলের পর ডিমের এই দামবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের পুষ্টির বাজেটে বড়সড় কোপ বসাতে চলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিমের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে সরকারি স্কুলগুলির মিড-ডে মিলের মেনুতে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। পোলট্রি সংগঠনের কর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, জ্বালানির দাম না কমলে আগামী দিনেও ডিমের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে সস্তায় প্রোটিন পাওয়ার চেনা উৎসটি এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কাই প্রবল হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *