মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির হাওয়ায় শেয়ার বাজারে রেকর্ড জোয়ার, ১২০০ পয়েন্টের লম্বা লাফে স্বস্তিতে বিনিয়োগকারীরা!

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির হাওয়ায় শেয়ার বাজারে রেকর্ড জোয়ার, ১২০০ পয়েন্টের লম্বা লাফে স্বস্তিতে বিনিয়োগকারীরা!

সাড়ে তিন মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাত পেরিয়ে অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির ইঙ্গিত মিলতেই বড়সড় ধাক্কা কাটিয়ে রেকর্ড গতিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ভারতের শেয়ার বাজার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির ঘোষণার পর সোমবার সকালে বাজার খুলতেই সূচকের গ্রাফ রকেটের গতিতে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে। প্রায় ১২০০ পয়েন্টের কাছাকাছি লম্বা লাফ দিয়ে দালাল স্ট্রিটে এক লপ্তে ফিরে এসেছে বিনিয়োগকারীদের হারানো আত্মবিশ্বাস।

শান্তিচুক্তির ঘোষণা এবং বাজারের রেকর্ড উত্থান

রবিবার রাতে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ১৯ জুন ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি সই হতে চলেছে। এই ঐতিহাসিক ঘোষণার জেরে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর পথ প্রশস্ত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ইতিবাচক খবরের জেরে সোমবার সকাল থেকেই ভারতীয় বাজারে ব্যাপক কেনাবেচা শুরু হয়। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সেনসেক্স ১১৩৫.০৩ পয়েন্ট বা ১.৫০ শতাংশ বেড়ে পৌঁছে যায় ৭৬,৬৬২.৯৮-এর ঘরে। অন্যদিকে, জাতীয় স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটি ৩৪৫.৫৫ পয়েন্ট বা ১.৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৩,৯৬৮.৪৫-এ অবস্থান করছে। পাশাপাশি ব্যাংক নিফটিও ৬৪২.৯০ পয়েন্ট বেড়ে ৫৭,৪৫৭.৭০-তে পৌঁছায়।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও দূরগামী অর্থনৈতিক প্রভাব

বাজারের এই জোয়ারে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে টাটা মোটরস, শ্রীরাম ফিন্যান্স, মথুট ফিন্যান্স এবং ট্রেন্টের মতো বড় শেয়ারগুলো, যার প্রতিটি প্রায় ৪ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই ভরা বাজারের মধ্যেও ওএনজিসি, এনটিপিসি এবং আদানি পাওয়ারের মতো কিছু নির্দিষ্ট জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের শেয়ারে সামান্য পতন লক্ষ্য করা গেছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এটি সরাসরি বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আন্তর্জাতিক অস্থিরতা কমে যাওয়ায় দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে বাজারে একদিনেই কয়েক লক্ষ কোটি টাকার নতুন পুঁজি এসেছে। ভারতের পাশাপাশি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো এশীয় দেশগুলোর বাজারও আজ ঊর্ধ্বমুখী ছিল, যা আগামী দিনে সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও মজবুত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *