অভিষেকের ভুল পথ আর ক্ষোভের পাহাড়, এনসিপিআই-তে মিশে গেলেন তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহী সাংসদ!

জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিয়ে ত্রিপুরাভিত্তিক দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-এর সঙ্গে মিশে গেল লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সেরে সোমবার দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরেছেন এই বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ, বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। কলকাতায় ফিরে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ পরিবর্তন চাইছেন এবং আগামী দিনে তাঁরা এনডিএ-র সহযোগী হিসেবেই কাজ করবেন।
পাহাড় প্রমাণ ক্ষোভ ও অভিষেকের ভূমিকা
দলের অন্দরে এই ব্যাপক ভাঙনের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি জমে থাকা ক্ষোভ এবং দুর্নীতিতে নিষ্ক্রিয়তা। শতাব্দীর অভিযোগ, গত ১৭ বছর ধরে দলের সঙ্গে থাকলেও দুর্নীতির বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানানো হলে তিনি কোনো পদক্ষেপ নিতেন না, বরং অভিযোগকারীদেরই ভুল বোঝানো হচ্ছে বলে দাবি করতেন। পাশাপাশি, দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে শতাব্দীর তাৎপর্যপূর্ণ বিশ্লেষণ হলো, অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও সম্ভাবনাময় হওয়া সত্ত্বেও অভিষেক ভুল পথে চালিত হয়েছেন। তৃণমূল নেত্রীর সাধারণ জীবনযাপনের বিপরীতে অভিষেকের বিলাসবহুল জীবনযাত্রা এবং দলের ভেতরে তাঁর আচরণের কারণেই মূলত নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাহাড় প্রমাণ ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছে।
তৃণমূলে বড়সড় ভাঙন ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ
এই বিদ্রোহ রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এক অভূতপূর্ব সংকট তৈরি করেছে। দিল্লিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বিদ্রোহী সাংসদদের সাম্প্রতিক বৈঠক আগামী দিনে নতুন রাজনৈতিক জোটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শতাব্দী রায় ছাড়াও এই ২০ জনের বিদ্রোহী তালিকায় রয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সায়নী ঘোষ, দেব, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, ইউসুফ পাঠান এবং পার্থ ভৌমিকের মতো দলের প্রথম সারির জনপ্রতিনিধিরা। এই বিপুল সংখ্যক সাংসদের দলবদল এবং এনডিএ-র দিকে ঝুঁকে পড়ার সিদ্ধান্তটি তৃণমূলের রাজনৈতিক অস্তিত্বের পাশাপাশি বাংলার ভবিষ্যৎ রাজ্য-রাজনীতিতেও এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে চলেছে।