গাড়ির বায়না থেকে চ্যাট ফাঁস, দলবদলের আবহে সুদীপকে তীব্র কটাক্ষ কুণালের

গাড়ির বায়না থেকে চ্যাট ফাঁস, দলবদলের আবহে সুদীপকে তীব্র কটাক্ষ কুণালের

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় ভাঙন ও ২০ জন বিদ্রোহী লোকসভা সাংসদের নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিআই-তে (NCPI) যোগদানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। দলবদলকারী এই সাংসদদের মধ্যে অন্যতম শীর্ষ ও বর্ষীয়ান নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে এবার নজিরবিহীন আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূলের অন্যতম শীর্ষ মুখপাত্র তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সুদীপের দলবদলের নেপথ্যে ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং সুযোগসন্ধানী মানসিকতা কাজ করেছে বলে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর একটি গোপন চ্যাট ফাঁসের মাধ্যমে তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছেন কুণাল।

গাড়ির আবদার ও কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক চ্যাট ফাঁস

দলবদলের খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্ট করেন কুণাল ঘোষ। সেখানে তিনি দাবি করেন, কিছুদিন আগেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একটি নতুন গাড়ি কেনার জন্য আর্থিক সাহায্য চেয়েছিলেন। কুণালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুদীপ মেসেজে লিখেছিলেন যে তাঁর বর্তমান গাড়িটির বয়স হয়ে যাওয়ায় তিনি সেটি পরিবর্তন করতে চান এবং দল তাঁকে এই বাবদ টাকা দিতে পারবে কি না।

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো একজন কোটিপতি প্রার্থীর এমন আর্থিক আবদারকে অত্যন্ত নির্লজ্জ ও বিচিত্র বলে কটাক্ষ করেছেন কুণাল ঘোষ। সুদীপকে ‘বিচিত্র পরচুলো’ এবং তাঁর স্ত্রী তথা চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘ভ্রাম্যমাণ বিউটি পার্লার’ বলে তীব্র উপহাস করেন তিনি। নির্বাচনী হলফনামার প্রসঙ্গ টেনে কুণাল প্রশ্ন তোলেন, কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হওয়া সত্ত্বেও কেন সুদীপকে দলের ফান্ডের ওপর নির্ভর করতে হবে? লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা পদ থেকে সরিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে আসার ক্ষোভ থেকেই এই দলবদল কি না, তা নিয়েও জোরালো ইঙ্গিত দেন এই তৃণমূল বিধায়ক।

তদন্তের চাপ ও রাজনৈতিক স্বার্থের সংঘাত

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই শিবির বদলের কারণ হিসেবে দলত্যাগের পেছনে গভীর রাজনৈতিক ও আইনি সমীকরণ কাজ করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ এবং মহুয়া মৈত্রের মতো দলের হেভিওয়েট নেতারাও সুদীপের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন। দলীয় সূত্রের দাবি, দিল্লির বুকে ১৭ বছর পুরনো গাড়ি বদলানোর আবদার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকচ করে দেওয়ার পর থেকেই সুদীপের দূরত্ব বাড়ছিল।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (ইডি) চাপ এড়াতেই সুদীপের এই দলবদল বলে সরাসরি অভিযোগ উঠেছে। ২০১৭ সালে রোজভ্যালি চিটফান্ড কাণ্ডে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি এবং পরবর্তীতে চিকিৎসার অজুহাতে জামিন পাওয়ার ঘটনাটি পুনরায় সামনে এনেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। political মহলের মতে, আইনি জটিলতা ও ইডি-র মামলা থেকে রেহাই পেতেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এনসিপিআই-এর হাত ধরেছেন। এই দলবদলের ফলে একদিকে যেমন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় শক্তিতে বড় ধাক্কা লেগেছে, ঠিক তেমনই শাসকদলও এখন বিদ্রোহী ও দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ার রণকৌশল নিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *