আমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার এক বছর, শেষ পর্বে তদন্ত তবে তাড়াহুড়ো নয়!

এয়ার ইন্ডিয়ার ‘এআই ১৭১’ বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলো। ভয়াবহ এই ঘটনার তদন্ত এখন একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রামমোহন নায়ডু জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক প্রোটোকল মেনে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে এই তদন্ত চলছে, তাই চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করার ক্ষেত্রে কোনো তাড়াহুড়ো করা হবে না। দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, দুর্ঘটনার আসল কারণ জনসমক্ষে আনতে এবং ভবিষ্যতে বিমান সুরক্ষা আরও বাড়াতে সরকার সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বজায় রাখছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে এয়ার ইন্ডিয়ার কড়া পদক্ষেপ
এই দুর্ঘটনার পর উড়ান সুরক্ষা নিয়ে ব্যাপক তৎপর হয়েছে বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। সাময়িকভাবে ‘সেফটি পজ’ নিয়ে ডিজিসিএ-র তত্ত্বাবধানে বোয়িং ৭৮৭-৮, বোয়িং ৭৮৭-৯ এবং বোয়িং ৭৩৭ বিমানের বিস্তারিত পরীক্ষা করা হয়েছে। ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ বা জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে অন্যান্য যান্ত্রিক দিক খুঁটিয়ে দেখা হলেও কোনো ত্রুটি মেলেনি। এই নিবিড় পরীক্ষার সুযোগে সংস্থাটি তাদের বড় বিমানের নির্ভরযোগ্যতা কর্মসূচির বাস্তবায়নের হার ৭৫ শতাংশ থেকে ৮৭ শতাংশে উন্নীত করেছে। এর ফলে আগামী দিনে উড়ান বিলম্বিত হওয়া বা মাঝপথে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার মতো ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।
কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যে বিশেষ জোর
উড়ান সুরক্ষার পাশাপাশি দুর্ঘটনা পরবর্তী সময়ে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। পাইলট, ক্যাডেট ও কেবিন ক্রুদের জন্য আগে থেকেই চলমান ‘হিউম্যান ফ্যাক্টরস চার্টার’-এর পরিধি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। চালু হয়েছে ‘Wellness.AI’ নামের একটি বিশেষ কর্মসূচি। এই উদ্যোগের আওতায় দেশজুড়ে ২৬৫ জন অভিজ্ঞ মনোবিজ্ঞানীর একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে, যা কর্মীদের মানসিক চাপ কমিয়ে কাজের ক্ষমতা বৃদ্ধি ও ইতিবাচক কর্মপরিবেশ তৈরিতে একটি সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।