পেট্রোলকে বিদায়! এবার দেশে ১০০ শতাংশ ইথানলেই চলবে গাড়ি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে প্রবল অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এমন সংকটের আবহে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করল ভারত সরকার। জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে এবার দেশে ১০০ শতাংশ ইথানল বা E100 জ্বালানির ব্যবহারে চূড়ান্ত অনুমোদন দিল কেন্দ্র। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গড়করি এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন।
আসছে ফ্লেক্স ফুয়েল গাড়ি
ইতিমধ্যেই নির্ধারিত সময়ের আগে পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল (E20) মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে পূরণ করেছে দেশ। এবার পুরোপুরি ইথানলে গাড়ি চালানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে মারুতি সুজুকি, হিরো মোটোকর্প, টয়োটা, হুন্ডাই এবং এমজি মোটরস-এর মতো শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলি বাজারে E100 জ্বালানি চালিত ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি আনতে চলেছে। সদ্যই নীতিন গড়করি ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর উপস্থিতিতে মারুতি তাদের জনপ্রিয় ‘ওয়াগন-আর’ মডেলের ফ্লেক্স-ফুয়েল ভার্সন এবং হিরো মোটোকর্প ইথানল চালিত বাইক প্রকাশ্যে এনেছে।
অর্থনীতি ও কৃষিতে সম্ভাব্য প্রভাব
বিকল্প জ্বালানির এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। E20 পেট্রোল চালুর ফলে ইতিমধ্যেই তেল আমদানিতে ১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি সাশ্রয় হয়েছে। নীতিন গড়করি জানান, শতভাগ ইথানলের ব্যবহার শুরু হলে প্রায় ২২ লক্ষ কোটি টাকার বিপুল তেল আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানো সম্ভব হবে। এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, একসময় তাঁর এই বিকল্প জ্বালানির স্বপ্ন নিয়ে অনেকেই উপহাস করেছিলেন, এমনকি নেতিবাচক প্রচারও হয়েছিল, তবে আজ তা বাস্তবে পরিণত হতে চলেছে।
অর্থনৈতিক সাশ্রয়ের পাশাপাশি এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত দেশের কৃষিক্ষেত্রের জন্যও অত্যন্ত লাভজনক। ইথানল মূলত আখ ও ভুট্টা-সহ অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য থেকে তৈরি হয়। তাই ইথানলের চাহিদা বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই এই ফসলগুলির উৎপাদন ও বিক্রি বাড়বে, যার সরাসরি আর্থিক সুফল পৌঁছবে কৃষকদের হাতে। পেট্রোলের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার ক্ষেত্রেও এটি একটি বড় হাতিয়ার হতে চলেছে।