প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে আরজি করে ফের সিবিআই, সিলের খোঁজে অ্যাকাডেমিক বিল্ডিংয়ে গোয়েন্দারা!

প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে আরজি করে ফের সিবিআই, সিলের খোঁজে অ্যাকাডেমিক বিল্ডিংয়ে গোয়েন্দারা!

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার দুই বছর পর আবারও তদন্তের গতি বাড়াল সিবিআই। সোমবার দুপুরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার একটি বিশেষ দল আচমকাই হাসপাতালে পৌঁছায়। তদন্তকারীদের এই দলে একজন নারী কর্মকর্তাও রয়েছেন। তারা প্রথমে হাসপাতালের অ্যাকাডেমিক বিল্ডিংয়ে যান এবং সেখানে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন। ২০২৪ সালের আগস্টের সেই নৃশংস ঘটনার পর নতুন করে সিবিআই-এর এই সক্রিয়তা ঘিরে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

আদালতের কড়া নির্দেশ ও নতুন তৎপরতা

২০২৪ সালের সেই ঘটনার পর মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে ইতিমধ্যে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তবে ঘটনার পরপরই হাসপাতালের সেমিনার রুমসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য-প্রমাণ লোপাটের একটি বড় অভিযোগ উঠেছিল। এই আবহে পুরো ঘটনার সুষ্ঠু ও পুনরায় তদন্ত চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় নির্যাতিতার পরিবার। গত মাসে হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ সিবিআই-কে নির্দেশ দেয়, আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার হলসহ প্রয়োজনীয় সমস্ত অংশ অবিলম্বে সিল করতে হবে। আদালত প্রশ্ন তোলে, পূর্বে সিল করা অংশগুলো খোলা হয়েছিল কি না। আদালতের সেই কড়া নির্দেশের ওপর ভিত্তি করেই সোমবার এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।

তদন্তের প্রভাব ও সম্ভাব্য অভিমুখ

আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সিবিআই-এর এই পুনর্তদন্তের মূল লক্ষ্য হলো প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার পেছনে কারা জড়িত ছিল, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা। অ্যাকাডেমিক বিল্ডিংয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখার পর তদন্তকারীরা মূল ঘটনাস্থল অর্থাৎ সেমিনার হলের দিকে যেতে পারেন বলে জানা গেছে। আদালতের নির্দেশে ঘটনাস্থলগুলো নতুন করে সিল করার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পাশাপাশি, পুরোনো তথ্যের সঙ্গে নতুন সংগৃহীত তথ্যের মেলবন্ধন ঘটানোই এখন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের প্রধান লক্ষ্য। এই পুনঃতদন্তের ফলে আগামী দিনে আরজি কর কাণ্ডের নেপথ্যে থাকা আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *