পায়রাদের জন্য জন্মনিরোধক! বার্সেলোনার অভিনব সমাধানে অবাক বিশ্ব

ইউরোপের বিখ্যাত শহর বার্সেলোনা পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং পায়রাঘটিত সমস্যা মেটাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একটি প্রাণীকেও হত্যা না করে, সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত ও নৈতিক উপায়ে শহরের পায়রার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে এই ফুটবলপ্রেমী শহরটি। স্পেনের এই শহর এখন অন্যান্য দেশের কাছেও এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
পায়রার উপদ্রব ও অভিনব সমাধান
ইউরোপের অন্যান্য শহরের মতো বার্সেলোনার সাধারণ মানুষ ও পর্যটকরাও পায়রার উপদ্রবে রীতিমতো অতিষ্ঠ ছিলেন। একটি সুস্থ পায়রা সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট অন্তর মলত্যাগ করে। হাজার হাজার পায়রার বিষ্ঠায় শহরের রাস্তাঘাট ও পর্যটনস্থলগুলি অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়ছিল, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল পর্যটন শিল্পেও। এই সমস্যার সমাধানে বার্সেলোনার প্রশাসনিক পরিষদ পায়রাদের জন্মনিরোধক বড়ি খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পুরো শহর জুড়ে ৪০টি বিশেষ স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র বসানো হয়েছে, যেখান থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টায় নিকারবাজিন নামক জন্মনিরোধক ওষুধ মেশানো খাবার বেরিয়ে আসে। এই খাবার গ্রহণের ফলে পুরুষ ও স্ত্রী—উভয় প্রকার পায়রারই প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং তাদের বংশবিস্তার প্রাকৃতিক উপায়েই বাধাপ্রাপ্ত হয়।
সচেতনতা ও অভাবনীয় সাফল্য
এই প্রকল্পকে সফল করতে প্রশাসন শহরের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ নিয়মাবলি জারি করেছে। নাগরিকদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা নিজেরা শখ করে পায়রাদের খাবার না দেন। এই নির্দেশ সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ নজরদারিরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০১৭ সালে যখন এই পন্থা চালু করা হয়, তখন বার্সেলোনায় পায়রার সংখ্যা ছিল প্রায় ৮৫ হাজার। প্রায় এক দশকের কাছাকাছি সময়ে এই অভিনব পদ্ধতির প্রয়োগে সেখানে পায়রার সংখ্যা ৭০ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। বার্সেলোনার এই অহিংস ও পরিবেশবান্ধব সাফল্য দেখে বর্তমানে প্যারিস এবং ব্রাসেলসের মতো শহরগুলিও পায়রা নিয়ন্ত্রণে একই পথ অনুসরণ করতে শুরু করেছে।