অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা কারা পাবেন না তা স্পষ্ট করে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী!

রাজ্যে সদ্য চালু হওয়া ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে প্রায় ৭৯ লক্ষ মা-বোনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা পৌঁছে গিয়েছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কারা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন, তা নিয়ে এবার অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট নির্দেশিকা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দীর্ঘ ফর্ম ও সরকারি সহযোগিতা
এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে আগের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রাপকদের পাশাপাশি নতুন আবেদনকারীদেরও ১২ পাতার একটি দীর্ঘ ফর্ম পূরণ করতে হচ্ছে। পারিবারিক তথ্য সংবলিত এই বিশদ ফর্ম পূরণ নিয়ে সাধারণ মহিলাদের একাংশের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ তৈরি হলেও, মুখ্যমন্ত্রী একে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি বড় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, আগের সরকারের আমলে সরকারি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে, এমনকি পুরুষদের অ্যাকাউন্টেও ভাতার টাকা জমা পড়েছে। তাই এবার সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই পারিবারিক তথ্য চাওয়া হচ্ছে। ফর্ম পূরণে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রয়োজনে সরকারি কর্মচারীরা বাড়িতে গিয়ে সাহায্য করবেন বলেও নন্দীগ্রামের এক অনুষ্ঠানে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
নাগরিকত্ব ও সামাজিক দায়িত্বের কড়া শর্ত
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার অধিকার শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকদেরই রয়েছে। ফলে কোনো অননুমোদিত বহিরাগত বা বাংলাদেশি এই সুবিধা পাবেন না। একই সঙ্গে এই ভাতার যোগ্যতার সাথে কিছু সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্বকে যুক্ত করা হয়েছে। যারা সন্তানদের নিয়ম মেনে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী ভ্যাকসিন দেন না কিংবা সরকারি ও সরকারি অনুমোদিত স্কুলে ভর্তি করান না, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাদ পড়বেন। এমনকি যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংগীত বা ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে আপত্তি জানানো হয়, সেখানে সন্তানদের পাঠালেও এই আর্থিক সহায়তা মিলবে না বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কারণে একদিকে যেমন প্রকৃত ও যোগ্য ভারতীয় নাগরিকরা জালিয়াতিমুক্ত উপায়ে সরাসরি সরকারি সুবিধা পাবেন, তেমনই অন্যদিকে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সাথে জাতীয় সংহতি ও স্বাস্থ্যবিধির শর্ত যুক্ত হওয়ায় তা সামাজিক শৃঙ্খলায় বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।