কলকাতার রাজপথে কি ফিরছে গতিশীল ট্রাম! ঐতিহ্য বাঁচিয়ে নতুন ভাবনায় পরিবহণ দফতর
.jpeg.webp?w=800&resize=800,533&ssl=1)
কলকাতার গণপরিবহণে ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। শহর কলকাতার অন্যতম প্রধান আবেগ ও ঐতিহ্যবাহী ট্রাম পরিষেবাকে সম্পূর্ণ বন্ধ না করে, নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে একে আরও দ্রুতগামী ও আধুনিক করার চিন্তাভাবনা করছে রাজ্য সরকার। সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ট্রাম কলকাতার গৌরব এবং এই ঐতিহ্যকে ধরে রেখেই শহরের বুকে পরিবেশবান্ধব ও যানজটমুক্ত ট্রাম চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী। বেআইনি টোটো চলাচল রুখতে এবং বাস রুটের সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ করতে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি জানান, নেতাদের টাকা দিয়ে বড় রাস্তায় প্রভাব খাটানোর দিন এবার শেষ।
পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ও নতুন রুটের ব্লুপ্রিন্ট
শহরের দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও গণপরিবহণের মানোন্নয়নে ইতিমধ্যেই ৫০টি নতুন ইলেকট্রিক বাস রাজ্যে চলে এসেছে বলে জানান পরিবহণমন্ত্রী। বর্তমানে এই বাসগুলির জন্য চার্জিং পয়েন্ট তৈরির কাজ চলছে এবং দ্রুতই একটি নির্দিষ্ট রুটে এই পরিষেবা চালু করা হবে। এছাড়া কলকাতা ও শহরতলির যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করতে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের সোদপুর মুড়াগাছা থেকে কল্যাণী এইমস পর্যন্ত নতুন সরকারি বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কাঁচরাপাড়া থেকে ব্যারাকপুর কোর্ট, ব্যারাকপুর কোর্ট থেকে এসপ্ল্যানেড এবং নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া ঐতিহ্যবাহী ৮৫ নম্বর বাসরুটটিকে পুনরায় সচল করার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
সহজ পরিষেবা ও দুর্নীতির অবসান
পরিবহণ ব্যবস্থার এই আধুনিকীকরণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক ভোগান্তি কমাতেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যারাকপুরের নোনা চন্দনপুকুর এলাকায় নতুন পরিবহণ ও শ্রমমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়েছে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের আর ছোটখাটো কাজের জন্য কলকাতায় ছুটতে হবে না। এই কার্যালয় চালুর ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ ও সময় দুই-ই বাঁচবে।
পরিবহণ ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের মূল কারণ হলো শহরের যানজট ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং একই সাথে যাত্রী সাধারণের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী সফর নিশ্চিত করা। আধুনিক দ্রুতগামী ট্রাম ও ইলেকট্রিক বাস চালু হলে কলকাতার যানজট সমস্যা যেমন অনেকাংশে কমবে, তেমনই শহরতলির সাথে কলকাতার যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।