রাতারাতি বাংলার সবচেয়ে বড় দল! বিদ্রোহী সাংসদদের হাত ধরে চর্চায় অচেনা এনসিপিআই

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে আচমকাই উলটপুরাণ। সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক, সকলের কাছে কার্যত অপরিচিত একটি রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ বা এনসিপিআই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ এই দলে যোগদানের কথা ঘোষণা করতেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো প্রবীণ নেত্রী জানিয়েছেন, তাঁরা এখন থেকে এনসিপিআই-এর হয়ে নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের নেতৃত্বেই কাজ করবেন।
ফেসবুকে বৃহত্তম দলের দাবি ও বর্তমান অবস্থান
এই নাটকীয় দলবদলের পরেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সক্রিয় হয়ে উঠেছে এনসিপিআই। দলের নামে খোলা ফেসবুক পেজে বিদ্রোহী সাংসদদের স্বাগত জানিয়ে দাবি করা হয়েছে, লোকসভায় সাংসদ সংখ্যার নিরিখে পশ্চিমবঙ্গে তারাই এখন বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি। তাদের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে বিজেপির ১২ জন, তৃণমূলের ৮ জন এবং কংগ্রেসের ১ জন সাংসদের বিপরীতে এনসিপিআই-এর ঝুলিতে এখন ২০ জন সাংসদ।
অচেনা দলের নেপথ্য পরিচয় ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এনসিপিআই একটি নিবন্ধিত অথচ অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল। ২০২৩ সালের মে মাসে তারা এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। হাওড়ার সাঁকরাইলের হাটগাছা গ্রামে রাজ্যের প্রশাসনিক ভবন নবান্নের কাছেই দলের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই দল অংশ নিলেও, লোকসভা বা বিধানসভায় তাদের কোনও প্রার্থী ছিল না। ফলে এত দিন তাদের রাজনৈতিক উপস্থিতি ছিল কার্যত অদৃশ্য।
একটি আনকোরা এবং প্রায় অপ্রচারিত রাজনৈতিক দলের ছাতার তলায় একসঙ্গে ২০ জন সাংসদের এই যোগদান বাংলার রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ঘটনা। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু সংসদীয় সমীকরণকেই বদলে দিচ্ছে না, বরং শাসকদলের জন্য এক প্রবল রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। দলত্যাগ বিরোধী আইনের জটিলতা এড়াতে এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয়ের একটি কৌশলগত মাধ্যম হিসেবেই এই অচেনা দলটিকে হাতিয়ার করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই অভাবনীয় দলবদল আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।