তৃণমূলের ভাঙনে মুর্শিদাবাদে তীব্র অসন্তোষ, চরম বিপাকে শীর্ষ নেতৃত্ব!

তৃণমূলের ভাঙনে মুর্শিদাবাদে তীব্র অসন্তোষ, চরম বিপাকে শীর্ষ নেতৃত্ব!

বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন এখন চরম আকার ধারণ করেছে। দলের শীর্ষ স্তরের জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের স্বার্থে দলত্যাগ করলেও, এর সবচেয়ে বড় মাসুল গুনতে হচ্ছে মাঠে-ঘাটে লড়াই করা সাধারণ কর্মীদের। তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর একদিকে যেমন অধিকাংশ নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন, অন্যদিকে ২০ জন সাংসদের হঠাৎ করে ‘এনসিপিআই’ নামক একটি অচেনা দলের সঙ্গে হাত মেলানোর সিদ্ধান্ত নিচুতলার কর্মীদের ক্ষোভকে আরও উস্কে দিয়েছে। এই দলবদলের খেলায় মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক জটিলতা।

নেতাদের সুবিধাবাদ ও নিচুতলার ক্ষোভ

গত ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়া দল মাত্র এক মাসের মধ্যে বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়েছে। প্রায় ৮০ জন বিধায়কের দুই-তৃতীয়াংশ দল থেকে দূরত্ব বাড়িয়েছেন, যার ফলে হাতছাড়া হয়েছে পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ। একই পথ অনুসরণ করে ২০ জন সাংসদও এনডিএ-র সহযোগী দল এনসিপিআইয়ের হাত ধরেছেন। নেতাদের এই আকস্মিক ডিগবাজি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না মুর্শিদাবাদের সাধারণ কর্মীরা। দীর্ঘদিন ধরে যে আদর্শের জন্য তাঁরা লড়াই করেছেন, নেতাদের রাতারাতি সেই আদর্শ বিসর্জন দেওয়ার ঘটনা জেলা জুড়ে কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।

নেতৃত্বের সংকট ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

এই গণ-দলবদলের ফলে এখন খোদ দলত্যাগী শীর্ষ নেতারাই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কর্মীদের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের মুখে পড়ে মুর্শিদাবাদের বিদায়ী সাংসদ আবু তাহের স্পষ্টতই শঙ্কিত। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান যে, বর্তমানে তিনি অত্যন্ত মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন এবং দলত্যাগী নেতারা বড়সড় বিপদের সম্মুখীন। একইভাবে এই এনসিপিআই সন্ধি সহজভাবে নিচ্ছেন না বিধায়ক আখরুজ্জামানও। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে তাঁরা গভীরভাবে মর্মাহত। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে ইতিমধ্যেই দলত্যাগী ৬৪ জন বিধায়ক কলকাতায় এক জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছেন। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং কর্মীদের ক্ষোভ আগামী দিনে জেলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *