সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে জট, জলঙ্গিতে কৃষকদের জমি বাঁচাতে জোর তৎপরতা!

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে জট, জলঙ্গিতে কৃষকদের জমি বাঁচাতে জোর তৎপরতা!

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের সাগরপাড়া থানার চর-কাকমারী এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র জমি-জট। সীমান্ত থেকে অনেকটা ভিতর দিয়ে ফেন্সিং বা বেড়া নির্মাণের সরকারি পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এই আপত্তির জেরে সমস্যা সমাধানে চর-কাকমারী বিএসএফ ক্যাম্পে প্রশাসন, বিএসএফ ও কৃষক প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত রফাসূত্র মেলেনি।

কৃষকদের দাবি ও বিক্ষোভ

কৃষকদের মূল অভিযোগ, চর-কাকমারী থেকে বামনাবাদ পর্যন্ত এলাকায় প্রস্তাবিত ফেন্সিংয়ের স্থানটি সীমান্ত থেকে অনেকটাই দেশের অভ্যন্তরে। এর ফলে তাঁদের বহু উর্বর কৃষিজমি কাঁটাতারের ওপারে চলে যাওয়ার এবং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশের সুরক্ষার স্বার্থে কৃষকরা জমি দিতে সম্পূর্ণভাবে সম্মত, তবে তাঁদের স্পষ্ট দাবি— বেড়াটি নো-ম্যানস ল্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণ করতে হবে যাতে চাষের জমি সুরক্ষিত থাকে। নিজেদের এই দাবিতে গত ১০ জুন সাহেবনগরে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভও দেখান তাঁরা, যার পরেই মূলত প্রশাসনের টনক নড়ে এবং আলোচনার সূত্রপাত হয়।

জমি অধিগ্রহণের বর্তমান পরিস্থিতি

ইতিমধ্যেই রানিনগর ও জলঙ্গি ব্লকের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ফেন্সিংয়ের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। রানিনগরের সরন্দাজপুর, দক্ষিণ মাঝারদিয়াড়, চর কাতলামারী ও চর নবীপুর ডিহি মৌজায় প্রয়োজনীয় প্রায় ৯১ একর জমির মধ্যে ৬৯ একরের মালিকরা সম্মতি দিয়েছেন এবং ৫০ একরের বেশি জমি রেজিস্ট্রির মাধ্যমে বিএসএফের হাতে তুলেও দেওয়া হয়েছে।

শনিবারের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিএসএফের ৭৩ নম্বর ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার দীনেশ কুমার, জলঙ্গির বিডিও জয় আহমেদ এবং সাগরপাড়া থানার ওসি রাকেশ কুমার বিশ্বাস-সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। জলঙ্গির বিধায়ক বাবর আলি জানিয়েছেন, কৃষকদের আপত্তিকে গুরুত্ব দিয়ে নো-ম্যানস ল্যান্ডের কাছাকাছি বেড়া দেওয়ার বিষয়ে একটি প্রাথমিক ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। আগামী ১৭ জুন পরবর্তী বৈঠকে ফেন্সিংয়ের নির্দিষ্ট স্থান চূড়ান্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *