অভিনেত্রী সঞ্চিতার চরম পদক্ষেপ, ওরা আমার দিদিকে মেরে ফেলেছে বলে ভাইয়ের বিস্ফোরক দাবি!

হিন্দি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ, ৩০ বছর বয়সী অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগালের আকস্মিক মৃত্যুতে বিনোদন দুনিয়ায় ফের তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। গত ১৪ জুন সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে নিজের বাড়িতে সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। তবে এই মৃত্যুর সময়কাল এবং অভিনেত্রীর ভাইয়ের বিস্ফোরক দাবি বিনোদন জগতের অন্দরের এক অন্ধকার দিককে সামনে এনেছে। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১৪ জুন গ্ল্যামার দুনিয়াকে স্তব্ধ করে বিদায় নিয়েছিলেন অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত। ঠিক সেই একই তারিখে সঞ্চিতার এই চরম পদক্ষেপ ভক্তমহল ও সহকর্মীদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলছে।
গ্ল্যামার দুনিয়ার নেপথ্যে বিষাক্ত পরিবেশ ও কাজের চাপ
সঞ্চিতার আত্মহত্যার পেছনে বিনোদন জগতের তীব্র মানসিক চাপ ও কাজের অভাবকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টদের একাংশ। জানা গেছে, মৃত্যুর আগে সঞ্চিতা তাঁর শেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্টটি প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতকে উৎসর্গ করেছিলেন। এই ঘটনার পর অভিনেত্রীর ভাই অবিনাশ বিনোদন জগতের পরিবেশকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে অভিযোগ করেছেন, “ওঁরা আমার দিদিকে মেরে ফেলেছে।” তাঁর দাবি, এই ইন্ডাস্ট্রি অত্যন্ত বিষাক্ত ও নোংরা। প্রতিনিয়ত কাজের সুযোগের অভাব এবং সিনিয়রদের দ্বারা অনবরত অপমানের শিকার হয়েই সঞ্চিতা এই কঠিন পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। কাজের চরম অনিশ্চয়তা কীভাবে একজন শিল্পীকে অবসাদের অতলে ঠেলে দিতে পারে, এই ঘটনা তার অন্যতম বড় উদাহরণ।
মানসিক অবসাদ ও পুলিশি তদন্তের অগ্রগতি
অন্য দিকে, সঞ্চিতার সহ-অভিনেত্রী মেঘা শর্মা জানিয়েছেন যে, গত জানুয়ারি মাস থেকেই সঞ্চিতা কিছু ব্যক্তিগত কারণে তীব্র বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন এবং তাঁর চিকিৎসাও চলছিল। তিনি প্রায়ই আত্মহত্যার কথা বলতেন, যদিও পরিবার ও বন্ধুরা তাঁকে সবসময় ইতিবাচক রাখার চেষ্টা করতেন। ঘটনার দিন ভেতর থেকে দরজা বন্ধ থাকায় দীর্ঘক্ষণ সাড়া না পেয়ে পরিবার দরজা ভেঙে সঞ্চিতাকে উদ্ধার করে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় আচল থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এপিআই) বিনোদ ওয়াঘ জানিয়েছেন, মৃতের বাবা মাছিন্দ্র উগালের অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৯৪ ধারায় একটি আকস্মিক deaths (এডিআর) মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্ল্যামারের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মানসিক স্বাস্থ্য সংকট এবং এই মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো প্ররোচনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ সমস্ত দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করছে।