সরকারি পরিষেবা এবার মানুষের দোরগোড়ায়, পুরুলিয়ার জনকল্যাণ শিবিরে উপচে পড়া ভিড়

পুরুলিয়ায় আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরে উপচে পড়ল সাধারণ মানুষের ভিড়। সোমবার পুরুলিয়া শহরের এমএসএ ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই বিশেষ শিবির পরিদর্শনে আসেন রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ ও পূর্ত দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী নদীয়ার চাঁদ বাউরি। এদিন নিজের পাড়া বিধানসভা এলাকা ও রঘুনাথপুরের শিবির ঘুরে দেখে তিনি পুরুলিয়া শহরের মূল শিবিরে পৌঁছন। মন্ত্রীর এই সফরে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়া বিধানসভার বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় সহ অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব। শিবিরে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা সংক্রান্ত স্টল পরিদর্শন করার পাশাপাশি মন্ত্রী সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাঁদের অভাব-অভিযোগ শোনেন।
বঞ্চনার অবসান ও নতুন আশার আলো
শিবিরের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখার পর রাষ্ট্রমন্ত্রী নদীয়ার চাঁদ বাউরি দাবি করেন, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করে রেখেছিল। নতুন সরকারের এই জনকল্যাণ শিবিরের মাধ্যমে এবার সমস্ত মানুষ প্রকৃত সরকারি পরিষেবার সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে, বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় জানান যে রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকারের বয়স মাত্র এক মাস ছয় দিন। প্রশাসনিক কাজ এখনও পুরোপুরি গতি না পেলেও, সাধারণ মানুষের জরুরি সুবিধার কথা মাথায় রেখেই দ্রুত এই শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, অন্যান্য সমস্ত সরকারি পরিষেবাও আগের মতোই সচল ও চালু থাকবে।
আবাস ও স্বাস্থ্য প্রকল্পের স্টলে উপচে পড়া ভিড়
এদিন জেলার অন্যান্য ব্লকের পাশাপাশি পুরুলিয়া পৌরসভার ১১টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের জন্য ইনডোর স্টেডিয়ামে এই শিবিরের আয়োজন করা হলে সকাল থেকেই মানুষের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ক্ষোভ কাটিয়ে নতুন সরকারের কাছে ঘর পাওয়ার আশায় জরাজীর্ণ বাড়ির ছবি নিয়ে শিবিরে হাজির হন ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মালা ধীবর। তাঁর মতো অনেক মানুষেরই অভিযোগ, অতীতে বারবার আবেদন করেও তাঁরা আবাসের সুবিধা পাননি। স্থানীয় বিজেপি কাউন্সিলর আবির সেনগুপ্তের দাবি, পূর্ববর্তী সরকার সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান না করে জটিলতা তৈরি করেছিল, তাই মানুষ এখন নতুন আশায় এই শিবিরে আসছেন। এদিন সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে আয়ুষ্মান ভারত যোজনার স্টলে, যেখানে এসপিএইচএইচ (SPHH) ও এএওয়াই (AAY) রেশন কার্ডধারীরা বিপুল সংখ্যায় স্বাস্থ্য কার্ডের জন্য আবেদন জমা দেন। সামগ্রিক পরিস্থিতি তদারকি করতে শিবিরে উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়া সদর মহকুমা শাসক তথা পুরুলিয়া পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক উৎপল কুমার ঘোষ।