২২ গজে অব্যাহত ভারত-পাক ‘নো হ্যান্ডশেক’ নীতি, মুখ খুললেন ওয়াহাব রিয়াজ!

২২ গজে অব্যাহত ভারত-পাক ‘নো হ্যান্ডশেক’ নীতি, মুখ খুললেন ওয়াহাব রিয়াজ!

মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ৬৪ রানে হারিয়ে দুর্দান্ত জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছে ভারত। গত রবিবার (১৪ জুন) অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ভারতের মেয়েরা দাপুটে পারফরম্যান্স দেখালেও, ক্রিকেট মহলে এখন ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও বেশি আলোচনা হচ্ছে ‘নো হ্যান্ডশেক’ বা করমর্দন না করার বিতর্ক নিয়ে। টসের পর এবং ম্যাচ শেষে উভয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রচলিত করমর্দন রীতি এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনাটি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ক্রিকেট মাঠে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের রেশ

খেলোয়াড়দের এই করমর্দন না করার সিদ্ধান্ত কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে বিগত দিনের এক বড় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে এক ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন, যার পেছনে পাকিস্তানি যোগসূত্র প্রকাশ পেয়েছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং জাতীয় আবেগের প্রতি সংহতি জানিয়ে ২০২৫ সালের এশিয়া কাপে ভারতের পুরুষ দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব পাকিস্তানি অধিনায়ক সালমান আলি আঘার সঙ্গে হাত মেলাননি। সেই থেকে শুরু হওয়া ‘করমর্দন না করার’ নীতিটি চলতি বছরের মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও বজায় রাখলেন ভারতের অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। তিনি টসের পর এবং ম্যাচ শেষে পাকিস্তানি অধিনায়ক ফাতিমা সানার সঙ্গে হাত মেলানো থেকে বিরত থাকেন, যা দুই দেশের ক্রীড়া কূটনীতিতে নতুন প্রভাব ফেলছে।

ওয়াহাব রিয়াজের প্রতিক্রিয়া ও ম্যাচের চুলচেরা বিশ্লেষণ

ম্যাচ শেষে এই বিষয়ে পাকিস্তানের প্রধান কোচ ওয়াহাব রিয়াজের মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি কিছুটা ক্ষোভ উগরে দেন। ওয়াহাব রিয়াজ জানান, তিনি অনেক আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়ে দিয়েছেন, তাই ভারতীয় দলের এই হাত না মেলানোর সুনির্দিষ্ট কারণ তাঁর জানা নেই। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, যদি এভাবেই নীতি চালিয়ে যেতে হয়, তবে তা নিয়েই সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত, কারণ এতে তাঁদের খুব বেশি কিছু যায় আসে না।

এই করমর্দন বিতর্কের বাইরে দলের শোচনীয় পরাজয় নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করেছেন পাক কোচ। তিনি স্বীকার করেছেন যে, ডেথ ওভারে অতিরিক্ত ১৫-২০ রান দেওয়াই পাকিস্তানের ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার মূল কারণ ছিল, যা ভারতকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। তবে এই পরাজয় ভুলে দলের ইতিবাচক দিকগুলোকে সঙ্গী করে আগামী ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের উন্নতি ঘটাতে চান তিনি। এই ধরনের ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও নীতিগত অবস্থান আগামী দিনে ভারত-পাকিস্তান ক্রীড়া সম্পর্কের দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *