কালীঘাটে এবার ‘ডিম থেরাপির’ শিকার কুণাল ঘোষ! বৈঠক সেরে বেরোতেই মাথায় আছড়ে পড়ল পচা ডিম

রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা যেন নিত্যদিনের রোজনামচা হয়ে উঠেছে। শহর থেকে জেলা— সর্বত্রই এই নতুন ‘ডিম থেরাপি’র আতঙ্কে তটস্থ তৃণমূল শিবির। এবার সেই প্রকাশ্য বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম সারির দাপুটে নেতা তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সোমবার কালীঘাটে দলীয় বৈঠক শেষে বেরোনোর সময় আচমকাই তাঁকে লক্ষ্য করে পচা ডিম ছুড়ে মারল একদল যুবক। এই নজিরবিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিট ও সংলগ্ন হাই-প্রোফাইল এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
#WATCH | Kolkata, West Bengal: A local youth throws an egg on TMC MLA Kunal Ghosh who was leaving from the residence of party chairperson Mamata Banerjee. pic.twitter.com/CHscjF6qFb
— ANI (@ANI) June 15, 2026
দলীয় বৈঠক শেষে বেরোতেই অতর্কিত ডিম হামলা
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেলে কালীঘাটে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ। বৈঠক শেষে তিনি যখন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হয়ে বক্তব্য রাখার পর নিজের গাড়ির দিকে এগোচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ভিড়ের মধ্যে থেকে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক পচা ডিম ছুড়তে শুরু করে।
হামলার মুহূর্তের প্রধান বিবরণগুলি নিচে দেওয়া হলো:
- নিখুঁত নিশানা: আচমকাই কালো জামা পরা এক যুবক কুণালবাবুর অত্যন্ত কাছাকাছি চলে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ছোড়া কাঁচা ডিমটি সরাসরি তৃণমূল বিধায়কের মাথায় এসে লাগে এবং সেখানে ফেটে যায়।
- নিরাপত্তারক্ষীদের তৎপরতা: পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নেতার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রক্ষীরা এবং স্থানীয় দলীয় কর্মীরা তৎক্ষণাৎ কুণাল ঘোষকে চারিদিক থেকে ঘিরে ধরেন এবং দ্রুত নিরাপদে তাঁর গাড়িতে তুলে দেন।
- হামলাকারীর দাবি: ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেওয়ার আগে নিজেকে স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করা এক যুবক ক্যামেরার সামনে স্পষ্ট জানায়, জনগণের ওপর এঁরা অনেক অত্যাচার করেছেন, তাই আজ এরা পচা ডিম পাওয়ারই যোগ্য। সেই ক্ষোভ থেকেই এই হামলা।
‘কাপুরুষোচিত সস্তা রাজনীতি’, তোপ কুণাল ঘোষের
খোদ নিরাপত্তা বলয়ে মোড়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির ঢিলছোড়া দূরত্বে এই আকস্মিক হামলার পরেই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা। এটিকে কোনও সাধারণ ‘জনরোষ’ বলতে নারাজ তৃণমূল শিবির; বরং একে বিরোধীদের সুপরিকল্পিত চক্রান্ত, গুণ্ডামি ও মস্তানি বলে দেগে দিয়েছে ঘাসফুল শিবির।
আক্রমণের শিকার হয়ে কুণাল ঘোষ সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁর কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন:
- দমিয়ে রাখা যাবে না: “এই ধরনের সস্তা ও নোংরা রাজনীতি করে বা কুৎসিত বাঁদরামি করে আমার মুখ বন্ধ করা যাবে না। আমাকে কোনওভাবেই দমানো সম্ভব নয়। যারা ভিড়ের সুযোগ নিয়ে পেছন থেকে এই কাজ করেছে, তারা আসলে চরম কাপুরুষ।”
- জনসমর্থনে ভয়: “জনগণের মধ্যে আমাদের যে বিপুল সমর্থন রয়েছে, তা দেখেই বিরোধীরা ভয় পেয়েছে। আর সেই ভয় ও হতাশা থেকেই তারা এই ধরনের অসভ্য রাজনীতির আশ্রয় নিচ্ছে। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশ প্রশাসনের এই ধরনের বিষয়গুলিকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়।”
সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তদন্তে নামল পুলিশ
কালীঘাটের মতো একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও অতি-নিরাপত্তাবেষ্টিত ভিভিআইপি এলাকায় প্রকাশ্য রাস্তায় বিধায়কের ওপর এমন হামলার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। তবে ততক্ষণে হামলার মূল অভিযুক্তরা ভিড়ের সুযোগ নিয়ে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়।
এলাকার আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নতুন করে যাতে কোনও রাজনৈতিক অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিট ও সংলগ্ন এলাকায় পুলিশি টহলদারি এবং নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পেছনে কোনও সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের উস্কানি ও চক্রান্ত রয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও গভীর উদ্দেশ্য রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে স্থানীয় সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। এই ঘটনায় কুণাল ঘোষ স্বয়ং কালীঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।