বাসে ভুয়ো মহিলা যাত্রীর ভিড়! জিরো টিকিট কেলেঙ্কারিতে তোলপাড় এনবিএসটিসি

সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য তৈরি হলেও তাকে হাতিয়ার করে বিপুল আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠল উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম বা এনবিএসটিসি-র অন্দরে। মহিলাদের বিনামূল্যে বাস যাতায়াতের সরকারি প্রকল্পকে কাজে লাগিয়ে দেদার ভুয়ো ‘জিরো ব্যালেন্স’ বা ভাড়াহীন টিকিট কাটার এক অভিনব চক্র সামনে এসেছে। বাসে পর্যাপ্ত মহিলা যাত্রী না থাকা সত্ত্বেও খাতায়-কলমে বিপুল সংখ্যক মহিলা যাত্রী দেখিয়ে সরকারের কাছ থেকে টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে নিগমের একদল কন্ডাক্টর এবং চুক্তিবদ্ধ বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে।
দুর্নীতির নেপথ্যে কারণ ও অভিনব ছক
এই দুর্নীতির মূল কারণ হিসেবে মূলত রাস্তায় পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং পুরোনো ব্যবস্থার ত্রুটিকে দায়ী করা হচ্ছে। বর্তমানে এনবিএসটিসি-র প্রায় ৩৬টি বাস চুক্তির ভিত্তিতে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে চালানো হয় এবং এখানেই দুর্নীতির মাত্রা সবচেয়ে বেশি ধরা পড়েছে। এই বাসগুলিতে আধুনিক ই-পস মেশিনের বদলে পুরোনো আমলের কাগজের টিকিট ব্যবহৃত হয়। নিয়ম অনুযায়ী, মহিলাদের বিনামূল্যে সফরের পরিসংখ্যান পরিবহণ দফতরে জমা দিলে তার ভিত্তিতে নিগমকে টাকা মেটায় সরকার, যার জন্য ইতিমধ্যেই ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই কন্ডাক্টররা নিজেদের ইচ্ছেমতো জিরো ব্যালেন্সের টিকিট কেটে রাখছেন। বাস্তবচিত্রে বাসে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ মহিলা যাত্রী থাকলেও, বাড়তি মুনাফার লোভে খাতায়-কলমে তা একলাফে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে।
নিগমের কড়া পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
অস্বাভাবিক এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে নিগম কর্তৃপক্ষ। জালিয়াতি ধরা পড়ার পর কন্ডাক্টরদের কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়ায় রাতারাতি এই ভুয়ো হিসেব কমে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। আর্থিক নয়ছয় রুখতে কর্তৃপক্ষ কড়া অবস্থান নিয়েছে এবং স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও বাসে মহিলা যাত্রীর সংখ্যা ৩০ শতাংশের বেশি দেখালে সেই বেসরকারি সংস্থাকে আর বাস দেওয়া হবে না। এনবিএসটিসি-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর দীপঙ্কর পিপলাই রাস্তায় টিকিট চেকিং বাড়ানো এবং সমস্ত বাসে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর আশ্বাস দিয়েছেন। তবে নিগমে চরম কর্মীসংকট এবং বহু বাসের সিসিটিভি বিকল থাকার কারণে এই নজরদারির উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। প্রশাসনিক তৎপরতা এবং আধুনিকীকরণ দ্রুত বাস্তবায়িত না হলে এই ধরনের দুর্নীতির জেরে সরকারি কোষাগারের ধারাবাহিক এবং বড়সড় আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা প্রবল।