বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও মালদা জেলা পরিষদে তীব্র কোন্দল, সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনলেন দলেরই সদস্যরা!

পঞ্চায়েত স্তরে ক্ষমতা দখলের লড়াই এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে মালদা জেলা তৃণমূলের অন্দরে আড়াআড়ি ফাটল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও তৃণমূল পরিচালিত মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ এবং সহকারী সভাধিপতির বিরুদ্ধে দলেরই একাংশ সদস্য অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন। মালদার ডিভিশনাল কমিশনারের দফতরে গিয়ে জেলা পরিষদের ২০ জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সদস্যের সই করা একটি অনাস্থা চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ৪৩টি আসন বিশিষ্ট মালদা জেলা পরিষদে সিংহভাগ অর্থাৎ ৩৪টি আসনই শাসকদল তৃণমূলের দখলে রয়েছে। এছাড়া ৪টি আসনে বিজেপি এবং ৫টি আসনে কংগ্রেস প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন। এমন একতরফা সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার পরেও শাসক শিবিরের এই অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ জেলা প্রশাসনের অন্দরে এক বড়সড় অচলাবস্থা তৈরি করেছে।
একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ
তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের দাবি, সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে কর্মাধ্যক্ষ ও অন্যান্য সদস্যদের মতামতকে তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ নিজের মর্জিমতো একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছিলেন। প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদের সদস্য সামসুল হকের অভিযোগ, বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও সভাধিপতির একক সিদ্ধান্তের কারণে গোটা জেলার সার্বিক উন্নয়নের কাজ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে জেলাকে মুক্ত করতেই তাঁরা অনাস্থা আনতে বাধ্য হয়েছেন। অপর সদস্য প্রতিমা সিংহ জানান, বিগত প্রায় দুই বছর ধরে জেলা পরিষদের অন্তত ২৫ থেকে ২৬ জন সদস্যের স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে চরম সমস্যা হচ্ছিল। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সবুজ সঙ্কেত নিয়েই তাঁরা এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ করেছেন বলে দাবি বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর। তবে অনাস্থা আনলেও তাঁরা সকলেই দলেই থাকছেন বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন।
পাল্টা দলবিরোধী কাজের দাবি ও বিরোধী শিবিরের নজরদারি
এই বিদ্রোহের মুখে পড়ে মালদা জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি তথা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক এটিএম রফিকুল পাল্টা গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, দলের এই বিক্ষুব্ধ সদস্যরা আসলে বিরোধী শিবির কংগ্রেস ও বিজেপির সঙ্গে তলে তলে হাত মিলিয়ে এবং যোগসাজশ করে এই অনাস্থা প্রস্তাব ডেকেছেন, যা সম্পূর্ণভাবে একটি দলবিরোধী কাজ। অন্যদিকে, শাসকদলের এই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন ও কাজিয়া নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছে গেরুয়া শিবির। জেলা পরিষদের বিজেপি সদস্য তারাশঙ্কর রায় এই ঘটনাকে তৃণমূলের তীব্র গোষ্ঠীকোন্দলের অবধারিত পরিণতি বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, বিজেপি এই গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে এবং আগামী দিনে রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বের নির্দেশিকা অনুযায়ী পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এই অনাস্থা প্রস্তাবের জেরে মালদা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কাজকর্ম যেমন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তেমনই জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।