জ্বালানি রফতানিতে কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের, এক ধাক্কায় বাড়ল ডিজেলের উইন্ডফল ট্যাক্স!

জ্বালানি রফতানির ক্ষেত্রে ফের বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির জোগান স্বাভাবিক রাখতে এবার ডিজেল ও অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF) বা বিমানের জ্বালানি রফতানির ওপর উইন্ডফল ট্যাক্স বা বিশেষ অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পেট্রোল রফতানির ক্ষেত্রে বর্তমান শুল্কের হার অপরিবর্তিত থাকছে। অর্থ মন্ত্রকের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, নতুন এই শুল্কের হার ১৬ জুন থেকে কার্যকর করা হচ্ছে।
শুল্ক বৃদ্ধির পরিমাণ ও প্রভাব
কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ডিজেল রফতানির ক্ষেত্রে প্রতি লিটারে বিশেষ অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক ১৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৪ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে, এটিএফ রফতানির ক্ষেত্রে এই শুল্ক ৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে একলাফে বেড়ে প্রতি লিটারে ১২ টাকা ৫০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। পেট্রোল রফতানির ওপর শুল্ক বৃদ্ধি না হওয়ায় তা আগের মতোই প্রতি লিটারে ১ টাকা ৫০ পয়সা থাকছে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে সরাসরি প্রভাব পড়বে জ্বালানি রফতানিকারক সংস্থাগুলির ওপর। তবে দেশের আমজনতার দৈনন্দিন জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে এর কোনও প্রভাব পড়বে না, কারণ দেশের ভেতরের খুচরো বাজারে জ্বালানির দাম এতে প্রভাবিত হবে না।
কেন এই সিদ্ধান্ত সরকারের?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বাজারে পেট্রোলিয়াম পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখাই এই উইন্ডফল ট্যাক্স আরোপের মূল উদ্দেশ্য। পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক অস্থিরতার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল। সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে রফতানিকারকরা যাতে মাত্রাতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারেন, সেদিকে কড়া নজর রাখতেই সরকারের এই পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠাপড়ার ওপর ভিত্তি করে প্রতি ১৫ দিন অন্তর এই শুল্কের হার পর্যালোচনা করে কেন্দ্র। মূলত রফতানিকে নিরুৎসাহিত করে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারকে সুরক্ষিত রাখতেই এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।