মন্ত্রিত্বের জল্পনা উড়িয়ে বিস্ফোরক সুদীপ, এনসিপিআই-তে যোগ দিতেই নেপথ্যে বড় চক্রান্তের ইঙ্গিত!

তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-তে যোগ দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মোদী মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ার জল্পনা জোরালোভাবে উড়িয়ে দিলেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এবং শর্মিলা সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার খবরটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়ো বলে দাবি করেছেন তিনি। এনডিএ জোটে শামিল হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতেই এই ধরণের খবর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
জল্পনা উড়িয়ে ঐক্যের বার্তা
দিল্লির দরবারে লোকসভার স্পিকারের কাছে তৃণমূলের ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ একযোগে এনসিপিআই-তে মিশে যাওয়ার আবেদন জানানোর পর থেকেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এর মাঝেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরি নিরাপত্তা পাওয়া এবং মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ে। এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান যে, রবিবার শুধুমাত্র একটি দলের সঙ্গে মেশার সিদ্ধান্ত হয়েছিল এবং লোকসভার স্পিকারের ঘরে সংসদীয় ব্লক বা ঘর পাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর বাইরে মন্ত্রী বা দলীয় পদ নিয়ে কোনও কথা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের নবগঠিত জোটের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা এবং একতা ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের ভুয়ো খবর রটানো হচ্ছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলত্যাগ বিরোধী আইনের আইনি জটিলতা এড়াতেই বিক্ষুব্ধ সাংসদরা এনসিপিআই-এর মতো একটি প্রায় অপরিচিত দলকে বেছে নিয়েছেন। এই দলবদলের ফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এনসিপিআই ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেছে যে, ২০ জন সাংসদের উপস্থিতিতে লোকসভায় আসন সংখ্যার বিচারে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তারাই এখন বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি, যেখানে বিজেপির ১২ জন এবং তৃণমূলের ৮ জন সাংসদ রয়েছে। এই আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে একদিকে যেমন রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধাক্কা খেয়েছে, অন্যদিকে তেমনি দিল্লির রাজনীতিতে এই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর দর কষাকষির ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরমহল থেকেও তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ ও কটাক্ষ ধেয়ে আসছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে।