ইরানের পরমাণু অস্ত্র রুখতে ট্রাম্পের ৩০ হাজার কোটি ডলারের মাস্টারপ্ল্যান!

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে এবং ইরান-আমেরিকা সম্পর্কের বরফ গলাতে এক বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে ওয়াশিংটন। ফ্রান্সের জি৭ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তবে তেহরান যদি এই শর্ত মেনে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে, তবে দেশটিতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি বিশাল তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। পরমাণু অস্ত্রের প্রসার রোধ করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি বজায় রাখাই এই উদ্যোগের মূল কারণ।
তহবিলের রূপরেখা ও হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার ঘোষণা
প্রস্তাবিত ৩০ হাজার কোটি ডলারের এই বিশাল তহবিল সরাসরি ইরান সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে না। বরং ইরানের বাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলোকে এই তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠিত হতে পারে। একই সঙ্গে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, আগামী শুক্রবার থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখা এবং অর্থনৈতিক করিডোর উন্মুক্ত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সমঝোতা স্মারক এবং চূড়ান্ত চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব
ইতিমধ্যেই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি দেড় পাতার প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক (মউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মুহাম্মদ বাঘেই গালিবাফ স্বাক্ষর করেছেন। আগামী শুক্রবার সুইৎজ়ারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে, যার মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন জেডি ভান্স। এই চুক্তিটি সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা যেমন কমবে, তেমনই হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত হওয়া এবং বিশাল আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের জোয়ারে বিশ্ব অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে।