বিদেশে তেল বিক্রি রুখতে কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের! দেশীয় বাজারে জ্বালানির দাম থাকছে অপরিবর্তিত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বর্তমানে ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত জোগান সুনিশ্চিত করতে বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। ডিজেল এবং এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা বিমানের জ্বালানির (এটিএফ) রফতানির ওপর একধাক্কায় ‘উইন্ডফল ট্যাক্স’ বা অতিরিক্ত শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। ১৬ জুন থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলেও সাধারণ গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির খবর, এর ফলে দেশের অভ্যন্তরে পেট্রল ও ডিজেলের দামে কোনো প্রভাব পড়ছে না।
শুল্ক বৃদ্ধির পরিমাণ ও পেছনের কারণ
অর্থ মন্ত্রকের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল রফতানির ক্ষেত্রে বিশেষ অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক সাড়ে ১৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিমানের জ্বালানি বা এটিএফ-এর ক্ষেত্রে এই শুল্ক লিটার প্রতি সাড়ে ৯ টাকা থেকে একলাফে সাড়ে ১২ টাকা করা হয়েছে। তবে পেট্রল রফতানির শুল্ক আগের মতোই দেড় টাকা রাখা হয়েছে। মূলত আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তেল শোধনকারী সংস্থাগুলি যাতে দেশের বাজারে তেল বিক্রি না করে বিদেশে রফতানির মাধ্যমে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করতে না পারে, তা আটকাতেই সরকারের এই পদক্ষেপ।
দেশের বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব
আন্তর্জাতিক বাজারের আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে সংস্থাগুলি যখন বিনা পরিশ্রমে বিপুল মুনাফা অর্জন করে, তখন তার ওপর সরকার এই উইন্ডফল ট্যাক্স বা বিশেষ কর আরোপ করে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতি ১৫ দিন অন্তর এই করের হার পর্যালোচনা করা হচ্ছে। করের পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে তেল শোধনকারী সংস্থাগুলির বিদেশে জ্বালানি রফতানি নিরুৎসাহিত হবে। এর সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের বাজারে। রফতানি কমে যাওয়ার ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির ঘাটতি বা আকাল তৈরি হওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকবে না এবং দেশে পেট্রল-ডিজেলের সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকবে।