কলকাতা পুরসভায় কি এবার বাড়ছে ওয়ার্ড, ডিলিমিটেশন নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতা পুরসভা এলাকায় ওয়ার্ডের পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার কলকাতা পুরসভায় পা রেখেই এই বিষয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা এবং বুথের আসাম বণ্টন দূর করতে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই পুনর্বিন্যাসের ভাবনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কলকাতার পুরভবনে আয়োজিত ‘স্বচ্ছতা স্বাগত অভিযান’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এই প্রশাসনিক সংস্কারের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই প্রসঙ্গে নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ভবানীপুর কেন্দ্রের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ভোটার এবং বুথ সংখ্যার মধ্যে বিপুল তারতম্য রয়েছে। কোনো ওয়ার্ডে যেখানে ৪৯টি বুথ রয়েছে, সেখানে অন্য কিছু ওয়ার্ডে মাত্র ১৫ থেকে ২০টি বুথ রয়েছে। বিশেষ করে ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের মতো বিশাল আকৃতির ওয়ার্ডের প্রশাসনিক ও নির্বাচনী ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য ডিলিমিটেশন বা সীমানা পুনর্নির্ধারণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
প্রশাসনিক সংস্কারের কারণ ও আইনি প্রক্রিয়া
কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা এবং দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, মহানগরের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থেই এই পদক্ষেপের প্রয়োজন। নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের সুপারিশের ভিত্তিতেই রাজ্য নির্বাচন কমিশন এই ডিলিমিটেশন বা ওয়ার্ডের পুনর্বিন্যাসের কাজটি সম্পন্ন করে থাকে। কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক কাজকে আরও গতিশীল করতে এবং প্রতিটি নাগরিকের কাছে পুরপরিষেবা সমানভাবে পৌঁছে দিতেই এই সীমানা পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
নির্বাচনী প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
কলকাতা পুরসভার বর্তমান বোর্ড ও নির্বাচনী ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে আইন মেনে কলকাতা পুরসভার নতুন পুর বোর্ডের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হবে। এর অর্থ হলো, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই কলকাতায় পুরসভার সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন হতে চলেছে। এই সময়ের মধ্যে ডিলিমিটেশনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগামী পুরভোটে ওয়ার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি ওয়ার্ডগুলির ভৌগোলিক সীমানাতেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে, যা কলকাতার স্থানীয় রাজনীতি ও নির্বাচনী সমীকরণে গভীর প্রভাব ফেলবে।