ছুটির সকালে ঘুম ভেঙে যোগাসন! সব সরকারি কর্মীর হাজিরা বাধ্যতামূলক করল নবান্ন

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরই আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালনে বিশেষ জোর দিচ্ছে নবান্ন। আগামী ২১ জুন, রবিবার ছুটির দিন হলেও রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মীকে সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে যোগা ম্যাট হাতে নির্ধারিত স্থানে হাজিরা দিতে হবে। মুখ্যসচিবের দফতর থেকে জারি করা এক নির্দেশিকায় এই উপস্থিতি সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী
কলকাতার রেড রোডে এবারের মূল অনুষ্ঠানটি জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হতে চলেছে, যেখানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্থায়ী কর্মীদের পাশাপাশি অস্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক, দৈনিক মজুরিভিত্তিক, সাম্মানিক এবং আউটসোর্সড—সব ধরনের কর্মীকে এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট দফতর, সরকারি আবাসন, রেড রোড অথবা মিলন মেলা প্রাঙ্গনে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এই যোগাভ্যাস চলবে। সরকারি দফতরের বাইরেও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সংস্থার কর্মীদের এই নিয়মের আওতায় আনা হয়েছে।
উদ্যোগের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, সরকারি স্তরে যোগব্যায়ামের মাধ্যমে কর্মীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এই বাধ্যতামূলক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে রাষ্ট্রসংঘ ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর ২০২৩ সালে রাষ্ট্রসংঘের সদর দফতর, ২০২৪ সালে শ্রীনগর এবং গত বছর বিশাখাপত্তনমে যোগ দিবস পালন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর কলকাতায় খোদ প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই মেগা ইভেন্ট তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যদিকে, রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর মতো ভিভিআইপিদের উপস্থিতির কারণে শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে ওইদিন সকালে কলকাতার ট্র্যাফিক ব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াতে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে।